• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২০ মিনিট পূর্বে
জান্নাতুল বিশ্বাস
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১ মে, ২০২৬, ১১:৩০ দুপুর

গরুর ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় নড়াইলের খামারিরা

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নড়াইলে ব্যস্ততা বেড়েছে গরুর খামারিদের। জেলার বিভিন্ন খামারে চলছে গরু মোটা-তাজাকরণ ও পরিচর্যা। পাশাপাশি পশুর হাটগুলোতেও শুরু হয়েছে কেনা-বেচা। গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় খামারির সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে এবারের কোরবানির বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন খামারিরা।

গোখাদ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং গরুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। এসব খামারে কোরবানির জন্য ৪৫ হাজার ৪৯৭ টি গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় ৫ হাজার ৭৬৪ টি বেশি রয়েছে।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের মিনা পাড়ায় রাহুল ও রিয়া এগ্রো ফার্মে কুরবানির জন্য ২২টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। তার মধ্যে ২৮ মন ওজনের ক্রস ফ্রিজিয়ান শাহিওয়াল জাতের ‘বাহুবলী’ সবচেয়ে বড়। রাহুল ও রিয়া এগ্রো ফার্মের মালিক রিপন মিনা বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে খামারটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি বছরই খামারে কোরবানির জন্য ষাঁড় প্রস্তুত করি। চলতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারে মোট ২২টি ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়েছে। ২৮ মন ওজনের বাহুবলীর পাশাপাশি আরও ২১ টি শাহিওয়াল জাতের ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়েছে খামারটিতে। যাদের প্রত্যেকটির ওজন ২০ থেকে ২৫ মনের মধ্যে।’ তিনি আরও বলেন, “গত বছর গোখাদ্যের খোলের বস্তা ২ হাজার ২০০ টাকায় কিনেছি। এবার তা বেড়ে ৩ হাজার ৩০০ টাকা হয়েছে। এত খরচ করে যদি ন্যায্যমূল্য না পাই, তাহলে বড় ক্ষতি হবে।”

খড়লিয়া গ্রামের খামারি সোহেল রানা বলেন, “আট বছর ধরে গবাদি পশু পালন করছি। এবছর কোরবানির জন্য আমার খামারে ১২টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর ওজন ১৫ থেকে ২০ মণ ছাড়িয়ে যাবে। গরুগুলো কোরবানিতে বিক্রি করবেন। প্রতিবছর কোরবানির এক-দুই মাস আগে খুলনা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে খামার থেকে গরু কিনে নিয়ে যেত। এবার এখনও কেউ আসেনি। বাজারের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে লোকসান গুনতে হতে পারে।”

রিপন ও সোহেল রানা মতো গরুর দাম ও বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন আরও অনেক খামারি। গোখাদ্যের দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উধর্বগতিতে পশু পালনে যে ব্যয় সেই পরিমাণ লাভের আশা নেই তাদের। তবে খামারিদের ভাষ্য মতে, ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ বন্ধ হলে গরুর ন্যায্য মূল্য পাবেন তারা।

খামারিরা জানান,“এ বছর গরুর খাবারের অনেক দাম বেশি। খৈল, ভূষি, খড়, সব জিনিসের দাম উর্ধ্বমুখী। প্রতি কেজি গমের খোসা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, চালের খুদের কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ভূট্রা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঘাসের আঁটি ২০ টাকা। এছাড়া বিছালী কাউনের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। খরচ যেহেতু বেড়েছে, সে তুলনায় গরুর দাম না পেলে ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। অনেক খামারি আরও জানান, হাটে গিয়ে পশু বিক্রি করাও ঝামেলার। বাড়ি থেকেই বিক্রি হলে তারা অনেক হয়রানি থেকে মুক্ত থাকেন।”

জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ‘এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলায় মোট ৪৫ হাজার ৪৯৭ টি গবাদি পশু মোটা তাজা করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ১৪ হাজার ৮৭৪ টি, বলদ ৬৩৯ টি,গাভী ৫ হাজার ১৪১ টি, ছাগল ২৪ হাজার ৭৮৮ এবং ভেড়া ৫৫ টি। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩৩ টি। পশু চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকছে ৫ হাজার ৭৬৪ টি। যা জেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলায় বিক্রি করা হবে। গৃহস্থালি থেকে শুরু করে খামারিরা এসব গরু-ছাগল লালন-পালন করেছেন।’

নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো.রাশেদুল হক বলেন, “জেলায় অনেক খামারি কোরবানিকে সামনে রেখে গরু প্রস্তুত করছেন। খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের রাস্তায় পাশে ও পতিত জমিতে ঘাস চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যের দাম বাড়লেও খামারিরা যেন ন্যায্যমূল্য পান এবং ক্রেতারাও সাধ্যের মধ্যে পশু কিনতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন ও প্রাণী সম্পদ বিভাগ নজর রাখবে বলে জানান তিনি।”

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]