• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১০ মিনিট পূর্বে
শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১ মে, ২০২৬, ১১:২৩ রাত

উখিয়ায় পাহাড়ী ঢালুতে অস্থায়ী পশুর হাট, ঝুঁকির মুখে ঈদযাত্রা

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়ায় ১১টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে অনুমোদনের পরদিনই প্রশাসনের দেওয়া শর্ত ভঙ্গ করে মহাসড়কের ঢালুর পাশে হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির ৪ নম্বর শর্তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর বা সন্নিকটে কোনো অবস্থাতেই অস্থায়ী পশুর হাট বসানো যাবে না। একই সঙ্গে শর্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও বলা হয়েছে।

কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে উখিয়ার টিভি টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের বিপজ্জনক পাহাড়ী ঢালুর ঠিক পাশ ঘেঁষেই বসানো হয়েছে প্রশাসন অনুমোদিত অস্থায়ী পশুর হাট। যেখানে সামান্য অসতর্কতায় প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা, সেই ঝুঁকিপূর্ণ ঢালুর কিনারায় বাঁশ-তাঁবু টাঙিয়ে চলছে গরু-ছাগল কেনাবেচা।

মহাসড়কের একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে আছে পিকআপ, ট্রাক ও ক্রেতাদের মোটরসাইকেল। হাটে আসা মানুষ ও রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচলে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশৃঙ্খল অবস্থা। একদিকে পাহাড়ী ঢালু, অন্যদিকে দ্রুতগতির যানবাহন, মাঝখানে গাদাগাদি করে পশুর হাট। যেন প্রশাসনের লিখিত শর্তকে প্রকাশ্যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এখানে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না

স্থানীয়দের অভিযোগ, টিভি টাওয়ার এলাকা এমনিতেই দুর্ঘটনাপ্রবণ। তার ওপর মহাসড়কের গা ঘেঁষে পাহাড়ী ঢালুতে হাট বসানোয় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হাটটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মহাসড়কে উঠে আসছেন। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। এছাড়াও এলাকাটি বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের অংশ হলেও সেটির অনুমোদন দিয়েছেন উখিয়ার ইউএনও।

অভিযোগ উঠেছে, অস্থায়ী পশুর হাটের নামে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে নামমাত্র রাজস্ব, অথচ আড়ালে মোটা অঙ্কের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাবশালী এক যুবদল নেতার হাতে হাটটির নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নীরব আশ্রয়ে ওই নেতা এখন হাটজুড়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন। গরুপ্রতি আলাদা টাকা, গাড়িপ্রতি চাঁদা, এমনকি অস্থায়ী দোকান বসাতেও আদায় করা হচ্ছে অনিয়মিত ফি। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি আর সাধারণ পশুর হাট নেই, বরং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এক নিয়ন্ত্রণহীন চাঁদাবাজির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশ ছাড়া এমন প্রকাশ্য অনিয়ম সম্ভব নয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, 'ঈদের সময় এমনিতেই সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। এখন মহাসড়কের ঢালুর পাশে হাট বসানো হয়েছে। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।'

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, 'যে জায়গায় দাঁড়িয়ে মানুষ ভয় পায়, সেখানে প্রশাসন হাট বসানোর অনুমতি দিলো কীভাবে বুঝি না। এই পাহাড়ী ঢালু এলাকায় আগেও বহু দুর্ঘটনা হয়েছে। এখন হাট বসিয়ে পুরো মহাসড়কটাই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে।'

ব্যবসায়ী নুরুল কবির বলেন, 'মহাসড়কের পাশে এমন বিশৃঙ্খল হাট বসানো মানে মানুষকে মৃত্যুফাঁদে ঠেলে দেওয়া। ট্রাক, পিকআপ, পশু আর মানুষের ভিড়ে রাস্তা অচল হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন নিজেরাই শর্ত দিয়েছে, আবার নিজেরাই সেই শর্ত মানছে না।'

স্থানীয় যুবক জাহিদ হোসেন বলেন, 'রোহিঙ্গা ক্যাম্প কাছেই হওয়ায় শত শত মানুষ হাটে আসছে। তারা সরাসরি মহাসড়কে উঠে পড়ছে। এখানে যদি কোনো বাস নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন লাশ গুনতে হবে। দুর্ঘটনা ঘটার আগে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে না?'

অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, 'এই ঢালু রাস্তায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করাই কঠিন। তার ওপর রাস্তার পাশে হাট বসিয়ে আরও বিপজ্জনক করা হয়েছে। ঈদের সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ থাকবে, তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।'

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'যে জায়গায় পশুর হাট বসানো হয়েছে, সেটি মূলত বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তঘেঁষা এলাকা হিসেবে পরিচিত। অথচ উখিয়া উপজেলা প্রশাসন কীভাবে সেখানে অনুমতি দিলো, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। প্রশাসন কি সরেজমিনে জায়গা যাচাই করেছে, নাকি কাগজে-কলমেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে? এমন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ী ঢালুর পাশে মহাসড়ক ঘেঁষে হাট বসানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ দায়িত্বহীন। এখানে যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তখন দায় নেবে কে?' অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর স্থান নির্ধারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশাসন সরেজমিনে মনিটরিং করেছে কি না জানতে চাইলে ইউএনও রিফাত আসমা বলেন, ওই বাজারটি প্রতি বছর হয়। একারণে এবারও দেওয়া হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে তা অনুমতি দিতাম না।

তবে দুর্ঘটনাপ্রবণ টিভি টাওয়ার এলাকায় মহাসড়কের পাশে হাট বসানোর বিষয়ে প্রশাসন অবগত কি না, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের ঘোষিত শর্ত বাস্তবায়নে কার্যকর নজরদারি না থাকলে ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়বে। তাই দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে হাট সরিয়ে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]