• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৭ মিনিট পূর্বে
মো: সাইফুল আলম সরকার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২৬, ১০:০৬ রাত

'শ্রমিক বান্ধব বাজেটের রুপরেখা' উপস্থাপন করলো বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন (বা.জা.ফে.-৮) এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংগঠনের সভাপতি এ্যডভোকেট অতিকুর রহমান আজ ২৪ মে ২০২৬ বরিবারে একটি শ্রমিক বান্ধব বাজেটের রুপরেখা উপস্থাপনা করেন।

সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক লস্কর মো: তছলিমের সঞ্চলনায় এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহ: সভাপতি যথাক্রমে কবির আহাম্মেদ, গোলাম রাব্বানী, মুজিবুর রহমান ভূইয়া, সহ: সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল্লাহ, আক্তারুজ্জামান দপ্তর সম্পাদক নুরুল আমিন, কোষাধ্যাক্ষ আজহারুল ইসলাম, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জামিল মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান, বিটিসিএল আদর্শ ট্রেড ইউনিয়ন সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহ ওয়াসা, ডিপিডিসি, বিআরইএল সহ বিভিন্ন জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ।

বাজেট উপস্থাপন শেষে এডভোকেট অতিকুর রহমান বলেন, আমরা সরকারকে একটি প্রাথমিক ধারনা ও রুপ রেখা প্রদান করে সহযোগিতা করলাম, আশা করি সরকার আগামি বাজেট প্রনয়নে এই রুপরেখা অনুসরন করবেন।

বাংলাদেশের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সত্যিকার অর্থে শ্রমিকবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক করতে হলে বাজেটের দর্শন পরিবর্তন করতে হবে। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়।

অতএব, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোট বরাদ্দের অন্তত ১০ শতাংশ শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই হোক আগামী বাজেটের মূল দর্শন।"

শ্রমিক কল্যানের বাজেট রুপ রেখা সারসংক্ষেপ নিম্নরুপ:-

"শ্রমিকের বাজেট ভাবনা: ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাজেট প্রস্তাবনা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম জাতীয় বাজেট ছিল ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অর্থনৈতিক যাত্রায় দেশের বাজেটের আকার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়ায় প্রায় ৭লক্ষ ৯৭ হাজার কোটি টাকায়। পরবর্তীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের উপস্থাপিত নিয়ন্ত্রিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৭ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে বাজেটের পরিধি বৃদ্ধি পেলেও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শ্রমিক কল্যাণভিত্তিক পরিকল্পনা এখনো কার্ত্তিক্ষত মাত্রায় পৌঁছায়নি।

এই বাস্তবতায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটকে শুধু প্রবৃদ্ধিমুখী নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক এবং শ্রমিককেন্দ্রিক হতে হবে। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সে লক্ষ্যে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনাগুলো একটি আধুনিক, মানবিক ও শ্রমিকবান্ধব বাজেট প্রণয়নের ভিত্তি হতে পারে।

ক. শ্রমিকের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ

১. মজুরিকে সাংবিধানিক ও অর্থনৈতিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

২. জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন।

৩. মজুরি সুরক্ষা তহবিল গঠন করতে হবে।

৪. মজুরি নিশ্চয়তা বিমা চালু করতে হবে।

৫. অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে।

৬. নারী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা প্রয়োজন।

খ. সামাজিক সুরক্ষা যাতের সংস্কার ও সম্প্রসারণ:

১. বাধ্যতামূলক সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল গঠন।

২. সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রকৃত উপকারভোগী নিশ্চিতকরণ।

৩. জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান।

৪. ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন।

৫. ঝুঁকিপূর্ণ পেশার শ্রমিকদের বিমা প্রদান।

৬. রানা প্লাজা ও কর্মস্থল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পুনর্বাসন।

৭. প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ তহবিল গঠন।

৮. শিল্পাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ।

৯. শ্রমিকের সন্তানদের শিক্ষা বৃত্তি প্রয়োজনে রাখা।

১০. শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ।

গ. ইনসাফপূর্ণ কর কাঠামো (Fiscal Fairness):

১. কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি ও সম্পদশালীদের ওপর কর।

২. পরোক্ষ কর হ্রাস ও প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধি।

৩. কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ।

ঘ. শ্রমিকের স্বাস্থ্য, আবাসন ও রেশন ব্যবস্থা:

১. শিল্পাঞ্চলে সর্বজনীন রেশন ব্যবস্থা।

২. শ্রমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ।

৩. সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প।

ঙ. কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন:

১. বেকারত্ব বিমা চালু।

২. রি-স্ক্রিলিং ও আপ-স্কিলিং কর্মসূচি।

৩. বেকার ভাতা ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি।

৪. শিক্ষানবিশ ভাতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ।

৫. প্রবাসগামী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন।

৬. স্বনিয়োজিত শ্রমিকদের সহায়তা।

৭. বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]