• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৪২ মিনিট পূর্বে
আবু রায়হান সরকার
নোয়াখালি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৬, ০৩:৩৭ দুপুর

নিখোঁজের আড়ালে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন সিআইডির 

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

নোয়াখালীতে নিখোঁজের আড়ালে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার ও ভয়াবহ জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে সৎ মা কমলা খাতুন ও তার শিশু ছেলে নোমানকে হত্যা করে প্রায় দুই বছর গুম করে রাখার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এরই মধ্যে গ্রেপ্তাররা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, ২০১২ সালে বিধবা কমলা খাতুন দ্বিতীয়বারের মতো সংসার শুরু করেন বিপত্নীক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। তাদের সংসারে জন্ম নেয় একমাত্র ছেলে নোমান।আবুল কালাম আজাদের প্রথম পক্ষের সন্তানদের নিয়েও বড় পরিবারে শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করছিলেন কমলা খাতুন। তবে প্রায় সাত-আট বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে বিরোধ শুরু হয়।২০২৪ সালের ১০ মার্চ কমলা খাতুন নিখোঁজ হয়েছেন উল্লেখ করে তার সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর সোনাইমুড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে কমলার ছোট বোন রহিমা বেগম বিষয়টিকে সন্দেহজনক মনে করে ১৪ মার্চ নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত প্রথমে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তে উঠে আসে, আবুল কালাম আজাদ মৃত্যুর আগে প্রায় ৩০ শতাংশ জমি ও বসতবাড়ি দ্বিতীয় স্ত্রী কমলা খাতুন এবং ছেলে নোমানের নামে লিখে দিয়েছিলেন। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এ সম্পত্তি নিজেদের নামে ফিরিয়ে নিতে দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করছিল প্রথম পক্ষের সন্তানরা।

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কমলা খাতুন ও তার ছেলে নোমানকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ ছিলেন। তদন্তের একপর্যায়ে কমলা খাতুনের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়, যা ঢাকার সবুজবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে ভাঙারি মালামালের সঙ্গে বিক্রি করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই তদন্তে অগ্রগতি আসে।দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গত ২১ মে ময়মনসিংহ থেকে সাইফুল ইসলাম রাজন রাজুকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনাইমুড়ী এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান সাগর ও সহযোগী আশিকুর রহমান টিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানায়, সম্পত্তি দখলের পরিকল্পনা করে ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়। ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাতে কমলা খাতুন ও তার ছেলে নোমানের খাবারের পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। গভীর রাতে তারা অচেতন হয়ে পড়লে গলায় গামছা পেঁচিয়ে, হাত দিয়ে গলা চেপে এবং বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় মা ও শিশুপুত্রকে। হত্যার পর আলামত নষ্ট করতে তাদের কাপড় পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং লাশ গোপনে পুকুরপাড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যমতে, ২৪ মে সকালে সিআইডি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পুকুর সেচ ও খনন অভিযান চালিয়ে কমলা খাতুন ও শিশু নোমানের দেহাবশেষ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য দেহাবশেষ নোয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দেহাবশেষ থেকে সংগৃহীত নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]