• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৯ সেকেন্ড পূর্বে
রাশেদুল ইসলাম রাশেদ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৪:৩১ দুপুর

কঙ্কাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৩০ কোটি টাকার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক!

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি আধুনিক সেতু। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেগুলো আজও মানুষের কোনো কাজে আসছে না। উদ্বোধনের অপেক্ষায় নয়, বরং কার্যত ‘কঙ্কাল’ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেতু দুটি। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পার হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে সংযোগ সড়ক নির্মাণ। ফলে ৩০ কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়।

অন্যদিকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পাশের পুরনো, সরু ও জরাজীর্ণ সেতু দিয়ে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে যেমন ক্ষোভ বাড়ছে, তেমনি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও ক্রমেই বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যানজট কমানো এবং জেলা শহরে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ বিভাগ জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে নতুন সেতু নির্মাণ করে। তবে নির্মাণ শেষ হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ আটকে থাকায় সেতু দুটি এখনও জনসাধারণের ব্যবহারের বাইরে।

গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের নতুন ব্রিজ এলাকায় ঘাঘট নদীর ওপর পুরনো সেতুর পাশে প্রায় ৭৬ মিটার দৈর্ঘ্যের ঘাঘট-২ সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে।

অন্যদিকে গাইবান্ধা-বালাশীঘাট সড়কের পুলবন্দি এলাকায় প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ আলাই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২ নভেম্বর। যানজট নিরসন ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো সেতুর বিকল্প হিসেবে নির্মিত এই সেতুর কাজও শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে।

কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় দুই বছর। তবুও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় কোনো সেতুই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার এই অবকাঠামো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় একদিকে যেমন জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদেরও ক্ষতি হচ্ছে।

নতুন ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা মিঠুন মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন আগে সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু চালু না হওয়ায় কোনো উপকার পাচ্ছি না। রাতে এসব সেতু মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হচ্ছে।”

পুলবন্দি এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার রবিন বলেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণ করেছে, অথচ মানুষ তার সুফল পাচ্ছে না। নতুন সেতু ফেলে রেখে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়ে গেছে।”

গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেন বলেন, “সেতু দুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা থাকায় কাজ এগোচ্ছে না। সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। ভূমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত সেতু দুটি চালু করা হবে।”

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের এই দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে জনগণের ব্যবহারের জন্য সেতু দুটি খুলে দেওয়া হোক। অন্যথায় কোটি টাকার অবকাঠামো বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকবে, আর ভোগান্তি ও ঝুঁকি বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকেই।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]