ঘুষ নেওয়ার দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন বিষয়ক উপমন্ত্রী সিলমি করিম। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সিলমি করিমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা কেপিকের এক মুখপাত্র।
এ নিয়ে গত দুই দিনে দুর্নীতির মামলায় মুখোমুখি হওয়া সরকারের দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করলো ইন্দোনেশিয়ার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। আগের দিনই দাদান হিন্দায়ানা নামের আরেক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে আটক করে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় (এজিও)। দাদান হিন্দায়ানা ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর নেওয়া অন্যতম প্রধান কর্মসূচি ‘বিনামূল্যে খাবার প্রকল্প’ তদারককারী একটি সংস্থার সাবেক প্রধান ছিলেন। এই কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা ও কেনাকাটা সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় দাদানকে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে, গ্রেপ্তারকৃত দুজনের দুই দুর্নীতি মামলার মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসন ও সংশোধন বিষয়ক উপমন্ত্রী সিলমি করিমসহ আরও সাতজনকে একটি ‘পরিকল্পিত’ চাঁদাবাজি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগের অপরাধের সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই চক্রটি বিদেশি আবেদনকারীদের দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়ার জন্য অর্থ আদায় করত বলে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা কেপিকের প্রধান সেতিও বুদিয়ান্তো।
বুধবার রাত থেকে সিলমিকে কেপিকের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সকালে হাতকড়া পরা ও কমলা রঙের জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় তিনি সেখান থেকে বের হন। এরপর তাকে জাকার্তার একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
কেপিকের মুখপাত্র বুদি বলেছেন, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে সিলমি প্রাবোওর পূর্বসূরি জোকো উইদোদোর অধীনে অভিবাসন বিষয়ক মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
২০২৪ সালে প্রাবোও দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ এবং দুর্নীতি নির্মূল করাসহ ইন্দোনেশিয়ার বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদের অবৈধ ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার পৃথকভাবে ইন্দোনেশিয়ার একটি আদালত দেশটির সাবেক শ্রম উপমন্ত্রী ইমানুয়েল ইবেনেজারকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমতিপত্র প্রক্রিয়াকরণে দুর্নীতির দায়ে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ইমানুয়েল গত বছর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং এর মাধ্যমে তিনি প্রাবোওর মন্ত্রিসভার প্রথম সদস্য হিসেবে ফৌজদারি দণ্ড পেলেন।
এর আগে, গত এপ্রিলে একটি স্থানীয় নিকেল কোম্পানির কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দেশটির প্রধান ন্যায়পাল নিয়োগের মাত্র ছয় দিন পর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সচিবালয় বিষয়ক মন্ত্রী প্রাসেতিও হাদি বলেছেন, সত্যি বলতে গত দুই দিনে বারবার ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন; স্পষ্টতই আমরা এটা আশা করিনি। তবে, সরকার দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় কর্তৃক পরিচালিত আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
সূত্র: রয়টার্স।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর