• ঢাকা
  • ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৮ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ০৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ রাত

আট বছর মেয়র থাকার পর পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ হাকিম

ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা পৌরসংস্থার (কেএমসি) মেয়র হিসেবে দীর্ঘ আট বছরের এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বিদায় নিলেন ফিরহাদ হাকিম। 

২০১৮ সালে যখন তিনি কলকাতার মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন শহরের একটা বিস্তীর্ণ অংশ, বিশেষ করে টালিনালা সংলগ্ন টালিগঞ্জ-যাদবপুর বেল্ট, বেহালার একাংশ এবং ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকাগুলো মারাত্মক পানীয় জলের সংকটে ভুগছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় দায়িত্ব নিয়েই তিনি এই সংকট দূরীকরণকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেন। 

সে সময় টালিগঞ্জ-যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তত ২০টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ২৪.৩ মিলিয়ন গ্যালন ভূগর্ভস্থ জল তুলতে হতো। ভূগর্ভস্থ জলের ওপর এই নির্ভরশীলতা আগামী দুই বছরে ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল পৌরসংস্থা। ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্প সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কেএমসি জল বৃদ্ধির বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে। 

যদিও কাজটি এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি, তবে এই বিশেষ প্রকল্পের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

নাগরিকদের ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে মেয়রের উদ্যোগে ধাপা জল শোধনাগারের সম্প্রসারণ এবং গড়িয়ার ঢালাই ব্রিজে একটি নতুন জল শোধনাগার নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। টালিগঞ্জ-যাদবপুর বেল্টের বাসিন্দারা যাতে এই প্রকল্পের সুফল পান, তা নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে এই অঞ্চল জুড়ে প্রায় ৪০টি সেমি-আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার এবং ক্যাপসুল ওয়াটার বুস্টার পাম্পিং স্টেশন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। 

বিদায়লগ্নে নিজের এই কর্মযজ্ঞ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম জানান, তিনি নাগরিকদের, বিশেষ করে যারা এখনো ভূগর্ভস্থ জলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের পরিস্রুত পানীয় জল দেওয়ার জন্য নিজের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন যে প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ শেষ করে যেতে না পারলেও ধাপা এবং ঢালাই ব্রিজের জল শোধনাগার দুটি প্রায় সমাপ্তির পথে এবং অদূর ভবিষ্যতেই নাগরিকরা এর সম্পূর্ণ সুবিধা পাবেন।

পানীয় জলের পাশাপাশি কলকাতার দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলমগ্নতা’ বা ওয়াটারলগিং সমস্যা দূরীকরণেও বিদায়ী মেয়র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বিশেষ তহবিল এনে গত তিন বছরে কলকাতার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করেছে কেএমসি-র ড্রেনেজ বিভাগ। খিদিরপুর-একবালপুর অঞ্চলের মানুষকে জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে ইতোমধ্যে একবালপুরের নবাব আলী পার্ক ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও তারাতলা, গার্ডেনরিচ এবং আমহার্স্ট স্ট্রিটে আরও তিনটি পাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ বর্তমানে চালু রয়েছে।

তবে বিদায়ের মুহূর্তে ফিরহাদ হাকিম তার স্বপ্নের প্রকল্প ‘হৃষিকেশ পার্ক ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন’-এর উদ্বোধনকালে মেয়র পদে থাকতে না পারায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, ঠনঠনিয়া, সুকিয়া স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট এবং কলেজ স্ট্রিটের বাসিন্দাদের তীব্র জল জট থেকে মুক্তি দিতেই তিনি আমহার্স্ট স্ট্রিটে এই পাম্পিং স্টেশনটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি জানতে পেরেছিলেন যে কলকাতার তৎকালীন মেয়র নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জলমগ্নতা থেকে মুক্তি দিতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তাই এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই তিনি নিজে এই ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা বর্জ্য নিষ্কাশন নিয়েও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছেন বিদায়ী মেয়র। কলকাতার একমাত্র বর্জ্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড ধাপার আধুনিকীকরণের প্রস্তাব তিনি অনুমোদন করে গেছেন। কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়, তা থেকে যাতে সম্পদ তৈরি করা যায়, তার জন্য একটি ‘নতুন ধাপা’ গড়ে তুলতে রাজ্য অর্থ দপ্তরের কাছে তহবিল বরাদ্দের চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি। 

পৌরসংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধাপা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ইতিমধ্যে আবর্জনাকে সার, কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) এবং প্লাস্টিকের আসবাবে রূপান্তরিত করার বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। এই ধরণের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ আরও বাড়িয়ে তুলতে ধাপার পাশেই আরও একটি বড় জমি চিহ্নিত করা হয়েছে, যা কলকাতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে। জনমুখী উদ্যোগ, ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি নাগরিক সংযোগ এবং কলকাতার পরিকাঠামোগত আমূল পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের এই আট বছরের মেয়াদ কলকাতার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]