সাধারণত আঙুর চাষের কথা উঠলেই চোখে ভেসে ওঠে বিদেশের বিস্তীর্ণ বাগান কিংবা দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল। তবে সেই প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেন নাটোরের এক কৃষিপ্রেমী শিক্ষক। শখের বসে শুরু করা আঙুর চাষই এখন তার সাফল্যের নতুন গল্প। ইউটিউব দেখে শেখা সেই উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক বাগানে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষি শিক্ষক আব্দুল আজিজ। ছাত্রজীবন থেকেই কৃষির প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। পটল, ড্রাগন, আপেল কুল কিংবা ভারত কুল চাষে আগেই সফলতা পেয়েছেন তিনি। তবে এবার নতুন স্বপ্ন দেখছেন আঙুর নিয়ে।
মাত্র ৯ মাস আগে বাড়ির পাশের প্রায় ১ বিঘা পতিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে লাগান কয়েকটি আঙুরের চারা। ইউটিউব থেকে চাষাবাদের কৌশল শিখে ধীরে ধীরে গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধৈর্য, পরিশ্রম আর পরিকল্পনায় মিলেছে সফলতা।
আজিজের বাগানে এখন দোল খাচ্ছে পাঁচ জাতের আঙুর। বাইকুনুর, সামার রয়েল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরে ভরে উঠেছে পুরো বাগান। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল। প্রথমদিকে শখের বসে বাড়ির আঙিনায় মাত্র চারটি বাইকুনুর জাতের চারা রোপণ করেছিলেন তিনি। পরিচর্যার পর একটি গাছ থেকেই পান ৭ থেকে ৮ কেজি আঙুর। সেই সাফল্যই বদলে দেয় তার ভাবনা। পরে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের উদ্যোগ নেন এই শিক্ষক।
আব্দুল আজিজ বলেন, শুরুতে এটা শুধু শখ ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটি একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনা থাকলে আমাদের দেশেও আঙুর চাষ সম্ভব। বাজার ভালো থাকলে এবার প্রায় ৯ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছি।
আজিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই বাগানে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক মানুষজন। অনেকেই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন, কিনছেন চারা গাছও। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারণ হলে একসময় নাটোরের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বাগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, ভিডিওতে আঙুর চাষ দেখেছি, কিন্তু এখানে এসে সরাসরি এত আঙুর ফলতে দেখে খুব ভালো লাগছে। আমরাও চারা নিয়ে বাড়িতে লাগানোর চিন্তা করছি।
কৃষি বিভাগ বলছে, আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ সম্ভব। বিশেষ করে বাইকুনুর ও ডিক্সন জাতের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, গত বছরও সিংড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষে সফলতা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ‘বাইকুনুর, সামার রয়েল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক ’ জাতের আঙুরের ফলন ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের মাটিতেও যে সফলভাবে আঙুর উৎপাদন সম্ভব, তা প্রমাণ করেছেন সিংড়ার বাহাদুরপুর গ্রামের শিক্ষক আব্দুল আজিজ। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
শুধু শখ নয়, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার যে খুলে যায়, তারই উদাহরণ আব্দুল আজিজ। শিক্ষকের হাত ধরে নাটোরের সিংড়ায় তৈরি হচ্ছে আঙুর চাষের নতুন স্বপ্ন যা ভবিষ্যতে দেশের ফল উৎপাদনে যোগ করতে পারে নতুন এক সম্ভাবনার নাম।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর