গাইবান্ধায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র ফাহমিদ রুমন (১৮) খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে লুটপাট চালানো হয়েছে। এসময় বাড়ির ভিতর থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র রাস্তায় বের করে আগুনে পোড়ানো হয়।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ত্রিমোহনী এলাকার পেয়ারাপুর গ্রামে অভিযুক্তের বাড়িতে এই তাণ্ডব চালায় নিহতের পরিবার-স্বজনসহ স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঘটনাস্থলে থাকা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
জানা গেছে, এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শুরু হওয়া তাণ্ডব চলে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। এসব ঘটনার ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একই সাথে ঘটনা সরাসরি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকেও লাইভ চালানো হয়।
পুলিশ, স্থানীয় সূত্র ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সূত্রে জানা যায়, বিকেলে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ অভিযুক্তের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বেশ কয়েকজন যুবক ওই বাড়ির বারান্দায় উঠে লাঠি, শাবল ও লোহার রড দিয়ে বারান্দার ছাদ ও ঘরের চালা ভাঙচুর করে। একই সাথে বারান্দার গ্রিল ও গেটে ভাঙচুর করে। পরে বাড়ি-ঘরের ভিতরে ঢুকে থালা-বাসনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে রাস্তায় ফেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এসময় দুটি মোটরসাইকেলও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এসময় উত্তেজিত জনতাকে পুলিশ নিবৃত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তবে শেষ পর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। একই সাথে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিকেল ৪টার পর নিহতের পরিবার, স্থানীয় জনতা ও একদল সুযোগ সন্ধানী মানুষ অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর করে। তারা বাড়িতে ঢুকে দুটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র বের করে রাস্তায় ফেলে আগুন দেয়। এসময় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এসময় তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ এজাহার দেয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদ মাগরিব জানাজা শেষে মরদেহ দাফন হয়েছে। একই সাথে অভিযুক্তের মা ও বোন পুলিশ হেফাজতে আছে বলেও জানান তিনি।
গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার (এসও) রিফাত আল মামুন বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে পৌঁছার আগেই দুটি মোটরসাইকেল পুরোপুরি আগুনে পুড়ে যায়। এসময় আমরা সোফাসহ (ফার্নিচার) অন্যান্য আসবাবপত্রে দেওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণ করি।
প্রসঙ্গত, রোববার (৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হন সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ত্রিমোহনী রেলস্টেশন এলাকার পিয়ারাপুর গ্রামের মৃত ফারুক ইসলামের ছেলে ফাহমিদ রুমন (১৮)।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর