ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। শুরুতে এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করেছে।
তবে পরে মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র কোনও ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেনি। সংঘাতের নতুন পর্যায়ে এ তথ্য সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ইরানের কোনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রতিহত করেনি বলে জানিয়েছে সিএনএন। এর মাধ্যমে ইসরায়েলি এক সামরিক কর্মকর্তার আগের দাবির বিপরীত তথ্য সামনে এসেছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় ইরানের ছোড়া কোনও ক্ষেপণাস্ত্রই মার্কিন বাহিনী প্রতিহত করেনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি আগের সংঘাতগুলোর তুলনায় ভিন্ন পরিস্থিতি সামনে এনেছে। কারণ এর আগে ইরানের হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইসরায়েলকে রক্ষায় সহায়তা করেছিল।
তবে ওই মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখেছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে অন্তত দুইবার কথা বলেছেন।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা সত্ত্বেও গত রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েল বোমা হামলাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। এরপর ইরান উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরে ইসরায়েলও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক দফা বিমান হামলা চালায়।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই হামলার জবাবে ইসরায়েলে হামলার পাশাপাশি এই অঞ্চলের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে, সেসব দেশের বিরুদ্ধেও পাল্টা হামলা চালায় ইরান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল। তবে এর বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তীতে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। যদিও সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও চলমান রয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর