• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২১ সেকেন্ড পূর্বে
শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬, ০৯:১৪ সকাল

চাকরির শেষ কর্মদিবসে গদি বাণিজ্যে মেতে উঠলেন ডিএফও

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

সরকারি চাকরিজীবনের শেষ দিন সাধারণত একজন কর্মকর্তার দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ, সহকর্মীদের শুভেচ্ছা আর সম্মানজনক বিদায়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সফিকুল ইসলামের বিদায়ের শেষ অধ্যায় ঘিরে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক আলোচনা।

অবসরের মাত্র কয়েকদিন আগে জারি হওয়া একটি বিতর্কিত বদলির আদেশ, দাপ্তরিক নথিতে তারিখের অসঙ্গতি, পদায়ন বাণিজ্য এবং নানা প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে এখন প্রশ্নের মুখে তার শেষ কর্মদিবস। বন বিভাগের ভেতরে-বাইরে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে বিভিন্ন রেঞ্জ, বিট ও চেক স্টেশনে পদায়নের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে, যা ডিএফওর বিদায়ের শেষ মুহূর্তে এসে বাস্তবায়িত হয়েছে। ফলে এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং বন বিভাগের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও প্রভাববাণিজ্যের অভিযোগকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। তথ্য বলছে, গত ৬ জুন ছিল সরকারি ছুটির দিন। অথচ সেদিনই চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ থেকে প্রকাশ করা হয় একটি বদলির আদেশ। দাপ্তরিক নথিতে আদেশটির ডকেট নম্বরের পাশে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৩ মে ২০২৬। কিন্তু একই নথিতে ব্যবহৃত অফিসিয়াল সিলমোহরে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে ৬ জুন ২০২৬। একই আদেশে দুটি ভিন্ন তারিখ থাকার বিষয়টি বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীরা বলছেন, যদি আদেশটি সত্যিই ৩ মে জারি হয়ে থাকে, তাহলে তা প্রকাশ করতে ৩৪ দিনেরও বেশি সময় কেন লাগল? আর যদি ৬ জুন প্রস্তুত করা হয়ে থাকে, তাহলে পুরোনো তারিখ ব্যবহারের প্রয়োজন হলো কেন?

বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এর পেছনে থাকতে পারে পরিকল্পিত অনিয়মের ইঙ্গিত।

চট্টগ্রাম সার্কেলের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আদেশে এক তারিখ, সিলমোহরে আরেক তারিখ থাকার বিষয়টি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এটি প্রশাসনিক ভুল নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। সরকারি নথিতে এমন অসঙ্গতি কোনো সাধারণ বিষয় নয়।’

বন বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, ডিএফওর পুরো কার্যকালজুড়েই চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে একটি অদৃশ্য ‘পদায়ন বাজার’ সক্রিয় ছিল। যেখানে আকর্ষণীয় রেঞ্জ, গুরুত্বপূর্ণ বিট কিংবা লাভজনক চেকপোস্টগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল প্রভাব ও অর্থের এক অস্বচ্ছ বলয়।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, বিভিন্ন পদে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে চার লাখ থেকে বিশ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। অবসরের আগে সেই প্রক্রিয়ারই চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, ‘বন বিভাগে বদলি ও পদায়ন নিয়ে নানা অভিযোগ আগে থেকেও ছিল। কিন্তু অবসরের ঠিক আগে যেভাবে বিতর্কিত আদেশ জারি হয়েছে, তা কর্মকর্তাদের মধ্যেও ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

কারা পেলেন বিতর্কিত পদায়ন:

দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আলোচিত আদেশের মাধ্যমে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বদলি সম্পন্ন করা হয়েছে।হাটহাজারী রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. সাইফুল ইসলামকে শহর রেঞ্জে এবং বিভাগীয় দপ্তরের ডেপুটি রেঞ্জার আইয়ুব আলীকে হাটহাজারী রেঞ্জে পদায়ন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, যেখানে অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো রেঞ্জে পদায়নের সুযোগ পান না, সেখানে সাইফুল ইসলাম জুনিয়র হয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ও লাভজনক পদে বহাল রয়েছেন।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তিন বছরেরও বেশি সময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া ও হাটহাজারী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ও পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে টানা প্রায় ১১ বছর ধরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন একই অঞ্চলে অবস্থান করে তিনি ব্যাপক প্রভাববলয় গড়ে তুলেছেন। বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা দাবি, মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তাও তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, 'সাইফুল ইসলাম সাধারণ কোনো কর্মকর্তা নন। চট্টগ্রাম অঞ্চলে দীর্ঘদিনের অবস্থান ও নেটওয়ার্কের কারণে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং যেন তার জন্য বরাদ্দ হয়েই আছে। দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ও আর্থিকভাবে সুবিধাজনক দায়িত্বে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।'

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, এই বদলির বিষয়টি গত এক মাস ধরেই বিভাগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ফলে আদেশ প্রকাশের আগেই সংশ্লিষ্টদের গন্তব্য নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

একজন জ্যেষ্ঠ বন কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার আগে বড় ধরনের পদায়ন বা বদলি আদেশ দিলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে যখন সেই আদেশ দীর্ঘদিন প্রকাশ না করে শেষ মুহূর্তে কার্যকর করা হয়।’

বিতর্কিত বদলির আদেশটিতে বদলি কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে বন বিভাগের একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, কমিটির অন্তত দুজন সদস্যকে চাপ প্রয়োগ করে ফাইলে স্বাক্ষর করানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জ ও বিটে পদায়নের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত হওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম সার্কেল সদরের সহকারী বন সংরক্ষক খান মো. আবরারুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘অফিসিয়াল সিক্রেসি আইন অনুযায়ী এই বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ নেই। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

বন বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু কর্মকর্তা বদলির আদেশ পাওয়ার পরও নিয়ম অনুযায়ী রিলিজ না নিয়ে আগের কর্মস্থলেই বহাল রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সরকারি বিধিবিধানের পরিপন্থী। এর ফলে একজন কর্মকর্তা একই সঙ্গে পুরোনো ও নতুন কর্মস্থলের সুবিধা ভোগের সুযোগ পাচ্ছেন।

একজন ডেপুটি রেঞ্জার বলেন, ‘আমরা যারা মাঠে কাজ করি, তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয় যখন যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার চেয়ে অন্য বিষয় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা তৈরি হয়। এতে প্রশাসনের প্রতি আস্থা কমে যায়।’

পুরো ঘটনাপ্রবাহে চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো-এর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নথিতে তারিখের অসঙ্গতি, বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ এবং কমিটির সদস্যদের ওপর চাপ প্রয়োগের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।

একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘বন বিভাগ বর্তমানে নানা কারণে সমালোচনার মুখে রয়েছে। এর মধ্যে এমন অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।’

১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ:

চাকরি হারানোর আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, ‘গত বেশ কিছুদিন ধরে টাকার বিনিময়ে এই পদায়ন ও বদলি-বাণিজ্য হচ্ছে বলে শুনেছি। এই বদলির ক্ষেত্রেও ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে লেনদেন হয়েছে বলে বিভাগে আলোচনা রয়েছে।’

অন্য এক বন কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযোগ আছে যে কিছু পদায়নের জন্য লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। আমরা নিজেরা এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী নই, তবে বিভাগে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তাই অভিযোগগুলোকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।’

বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের কর্মী, পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য এবং বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

বন বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি সত্যিই ব্যাকডেট দিয়ে আদেশ জারি হয়ে থাকে, তাহলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। এ ধরনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।’

এদিকে ডিএফও সফিকুল ইসলামের বিদায়কে কেন্দ্র করে বন বিভাগের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ ও সুবিধাভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা, বিশেষ করে হাতিয়াছড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব নেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিদায়ী সংবর্ধনার নামে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট অফিস থেকে এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। ওই অর্থ দিয়েই মূল্যবান উপহার, জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও শতাধিক অতিথির আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, ডিএফও সফিকুল ইসলামের দায়িত্বকালজুড়ে অধিকাংশ বদলি ও পদায়ন ছিল বিতর্কিত এবং আর্থিক লেনদেননির্ভর। এসব কার্যক্রমে ডেপুটি রেঞ্জার সাইফুল ইসলামের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। বিদায়ের আগে জারি করা সর্বশেষ বদলি আদেশ নিয়েও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদায়নের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে।

শুধু তাই নয়, হাটহাজারী রেঞ্জে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধেও বন ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, বাগান প্রকল্পে দুর্নীতি এবং বন উজাড়ের অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাদের দাবি, সুফল প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত বাগানের বড় একটি অংশ বাস্তবায়ন না করেই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। যা তদন্ত করা প্রয়োজন।

এছাড়া বিদায়ী অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে সাইফুল ইসলাম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ একজন কর্মকর্তাকে সরকারি প্রটোকলের বাইরে গিয়ে এমন রাজকীয় বিদায় দেওয়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চাকরিজীবনের শেষ দিনে একজন কর্মকর্তা সাধারণত রেখে যান তার কর্মের স্মৃতি। কিন্তু ডিএফও মো. সফিকুল ইসলামের বিদায় ঘিরে এখন আলোচনায় রয়েছে একটি বিতর্কিত বদলির আদেশ, তারিখের অসঙ্গতি, পদায়ন বাণিজ্য করে বিদায় বেলায় একটি কালো অধ্যায় রচনা করে গেছেন। বনের গাছ কাটা হলে যেমন তার দাগ থেকে যায় গুঁড়িতে, তেমনি প্রশাসনিক অনিয়মের চিহ্নও থেকে যায় নথিতে, সিলমোহরে এবং সংশ্লিষ্টদের স্মৃতিতে।

এখন দেখার বিষয়, অভিযোগগুলো তদন্তের মুখ দেখে কি না, নাকি বিদায়ী এক কর্মকর্তার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোও হারিয়ে যায় সময়ের আড়ালে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডিএফও মো. সফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমে মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এবিষয়ে জানতে প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]