• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৩২ মিনিট পূর্বে
আবুল বাশার শেখ
ভালুকা, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬, ০৫:৪৯ বিকাল

ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন পুশের অভিযোগ

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ নম্বর বেডে ভর্তিকৃত নারী রোগীর দেহে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর রোগী বমি করতে শুরু করলে স্বজনদের নজরে আসলে বিষয়টি নার্সকে অবহিত করা হয়। পরে দায়িত্বরত নার্স স্যালাইনটি খোলে নিয়ে অন্য একটি স্যালাইন পুশ করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (০৯ জুন) বিকেলে। জানা যায়, ভালুকা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড টিএনটি এলাকার আকতার উজ্জামানের স্ত্রী শাহনাজ পারভীনের (৩৮) পেটে গত বুধবার (০৯ জুন) দুপুরে হঠাৎ ব্যথা শুরু হয়। একই দিন বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে তাঁকে স্বজনরা ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রোগীকে ভর্তি ও ব্যবস্থাপত্রে অন্যান্য ঔষধের সাথে হার্টম্যান্স্ সলিউশন স্যালাইন লিখে দিয়ে হাসপাতালের ইনডোরে পাঠায়। তখন ইনডোরে কর্তব্যরত নার্স আমেনা বেগম অন্যান্য ঔষধ প্রয়োগের পাশাপাশি হাসপাতালে মজুদ থাকা সরকারীভাবে সরবরাহকৃত স্যালাইন থেকে হার্টম্যান্স্ সলিউশন নামের স্যালইনটি পুশ করেন। স্যালাইন পুশের কিছুক্ষণ পর রোগী বমি করলে পাশে থাকা শহনাজের ছেলে আদিয়াত জামান অপূর্ব স্যালাইন ব্যাগের গায়ে লাগানো স্টীকারের লেখা পড়ে জানতে পারে তার মায়ের শরীরে যে স্যালাইনটি প্রবেশ করানো হচ্ছে তার মেয়াদ ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে উত্তীর্ণ হয়েছে।

বিষয়টি কর্তব্যরত নার্সকে জানালে তাৎক্ষণিক স্যালইনটি পরিবর্তন করে দেয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গেলে রোগী শাহনাজ পারভীনের এক স্বজন জানান, পেটের ব্যাথায় আক্রান্ত শাহনাজকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত নার্স অন্যান্য ঔষধ প্রয়োগ করে হাসপাতালের একটি স্যালাইন পুশ করেন। বেশ কিছুক্ষণ পর শাহনাজের ছেলের চোখে ধরা পড়ে স্যালাইনটি ২০২৪ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ। রোগীর শরীরে প্রথম স্যালাইনটি পুশ করার কিছুক্ষণ পর সে বমি করে দেয়। রোগীর ছেলে আদিয়াত জামান অপূর্ব জানায়, মা বমি করার পর স্যালাইনের গায়ে স্ট্রীকারের লেখা পড়ে সে স্যালাইনের মেয়দোর্ত্তীনের বিষয়টি জানতে পারে।

ওই সময় পাশের বেডের রোগীর অভিভাবক জুয়েল ও ফরিদসহ অন্যান্যরা জানান, রোগীর ছেলের চোখে ধরা পড়ায় নার্স তড়িগড়ি করে স্যালাইনটি খোলে নিয়ে আরেকটি স্যালাইন পুশ করেছে। অভিযুক্ত নার্স আমেনা বেগম জানান, পুশ করা সরকারী স্যালাইনটি আমাদের এখানে মজুদ ছিলো। তাড়াতাড়ি করে পুশ করায় মেয়াদোত্তীর্ণের বিষয়টি মিসটেক হয়েছে। বিষয়টি জানার সাথে সাথেই স্যালানটি পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে। নার্স সুপাভাইজার শারমিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের কাছে রক্ষিত সকল স্যালানই মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। ২০২৪ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইনটি এখানে কেমন করে আসলো তা আমি বলতে পারবো না।’ তাছাড়া, দীর্ঘ চাকরি জীবনে তার এমন কোন ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান।

স্টোরকিপার মেহেদী হাসান জানান, সরকারী বরাদ্দের স্যালাইন তিন মাস আগেই নার্স সুপারভাইজারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন বিষয়ে তার জানা নেই। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাসুদ পারভেজ জানান, এবিষয়ে ফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে রোগীর দেহে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ করার সত্যতা পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি চরম গাফিলতি এবং গুরুতর অপরাধ। তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট নার্সসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাজু/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]