নেত্রকোনার পূর্বধলায় জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরবর্তীতে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে দলটির উপজেলা শাখা। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে রৌশনারা রোডস্থ উপজেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু হুজাইফা।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ২০ মে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত ওপেন ডাক চলাকালে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও সদ্য বহিষ্কৃত কয়েকজন ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে দলের কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে আগিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি একেএম মাহফুজুর রহমান গুরুতর আহত হয়ে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। এছাড়া উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হানিফ উদ্দিন, বৈরাটি ইউনিয়ন আমির আবুল হাসনাত, খলিশাউর ইউনিয়ন সেক্রেটারি শাফিউল্লাহসহ আরও কয়েকজন আহত হন। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর আহতরা নিজ নিজ এলাকায় ফেরার পথে আগিয়া বাজার এলাকায় পুনরায় হামলার শিকার হন। একই সময়ে একেএম মাহফুজুর রহমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলেও দাবি করা হয়। এতে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়। এছাড়া আগিয়া ইউনিয়ন ওলামা বিভাগের সহ-সভাপতি মাওলানা আবু সালেহ সোহাগের মোটরসাইকেলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
দলটির দাবি, এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৬ মে দায়ের করা মামলায় জামায়াতের ৩৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলায় এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে, যারা ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না অথবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। তাদের দাবি, মামলার প্রধান আসামি জয়নাল আবেদীন ঘটনার দিন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। একইভাবে চিকিৎসাধীন একেএম মাহফুজুর রহমানকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বধলা হুসাইনিয়া ফাজিল মাদরাসার নবম ও দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর বয়স বাড়িয়ে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, হামলা ও ভাঙচুরে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-হুমকি বন্ধ এবং রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাছুম মোস্তফা, মাওলানা ছাদেক আহমদ হারিছ, আবু হুজাইফা, বোরহান উদ্দিন, আবু হানিফসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বক্তারা বলেন, অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় তাদের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হলেও উল্টো তাদের বিরুদ্ধে “মিথ্যা ও বানোয়াট” মামলা দেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে হামলা, ভয়ভীতি ও মামলা-হয়রানির সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর