ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটিপতির জগতে আপনাকে স্বাগতম; অন্তত এক অর্থে বিষয়টি কিন্তু তাই।
ইলন মাস্কের স্পেসএক্স — একটি রকেট, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান যা বর্তমানে নগদ অর্থ হারাচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি জায়ান্ট বা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় যার বিক্রি খুবই সামান্য — গত বৃহস্পতিবারে তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা শেয়ার বাজারে আসার জন্য প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার ঘোষণা করেছে।
এই পদক্ষেপটি এমন একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর পথ তৈরি করেছে, যার আকার প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্লুমবার্গ এবং ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী, মাস্ক ইতোমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।
এছাড়া তার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে তিনি এক ট্রিলিয়ন ডলারের পারিশ্রমিক প্যাকেজ পাওয়ারও পথে রয়েছেন।
তবে স্পেসএক্সের আইপিও তাকে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদায় নিয়ে যাচ্ছে—অবশ্য তার সম্পদ কীভাবে গণনা করা হচ্ছে তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।
স্পেসএক্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাস্ক কোম্পানিটির প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক। এর মধ্যে এমন কিছু শেয়ারও রয়েছে, যা তিনি ভবিষ্যতে অর্জন করতে পারেন, যদি তিনি মহাকাশে কম্পিউটার তথ্যকেন্দ্র পাঠানো এবং মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি গড়ে তোলার মতো লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হন। বৃহস্পতিবারের আইপিও মূল্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সে মাস্কের ওই শেয়ারগুলোর মূল্য প্রায় ৮৬৭ বিলিয়ন ডলার।
গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার বড় অংশ যা মাস্কের মালিকানাধীন, সেটির সাথে সম্মিলিতভাবে স্পেসএক্স ও টেসলা সিকিউরিটিজ ফাইলিং বা নথিপত্র থেকে ওয়াশিংটন পোস্টের গণনা অনুযায়ী এই দুটি কোম্পানিতে তার শেয়ারের যৌথ মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন বা এক লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।
তবে মাস্ককে ঘিরে প্রায় সব কিছুর মতোই তার ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদার ক্ষেত্রেও কিছু ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।
স্পেসএক্স তাকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বরাদ্দ দিয়েছে, সেগুলো কেবল তখনই কার্যকর হবে যখন তিনি তার প্রতিষ্ঠানের মূল্যকে অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন এবং মঙ্গল গ্রহে জনবসতিপূর্ণ মানব উপনিবেশ স্থাপনের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন। এসব শর্তগুলো বাদ দিলে, মাস্ক আপাতত ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটিপতির মর্যাদা থেকে সামান্য দূরে আছেন।
তবে স্পেসএক্সে তার মালিকানার যে তথ্য কোম্পানিটি প্রকাশ করেছে, তার ভিত্তিতে টেসলা ও স্পেসএক্সে মাস্কের শেয়ারের মূল্য মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মোট সম্পদের মূল্যের চেয়েও ১০ গুণের বেশি। এমনটাই বলছে ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স।
মাস্কের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ এখন বিশ্বের পরবর্তী শীর্ষ চার ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের প্রায় সমান। তারা হলেন গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন; আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান জেফ বেজোস যিনি এই পোস্ট বা পত্রিকারও মালিক; এবং ব্যবসায়িক সফটওয়্যার জায়ান্ট ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন।
আইপিওর আগে প্রকাশিত আর্থিক তথ্যে স্পেসএক্স উল্লেখ করেছে যে ২০২৩ সালের শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটি ১৩ বিলিয়ন ডলারের লোকসান করেছে। এর প্রধান কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ।
মাস্ক তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে যে পারিশ্রমিক পান, তার বেশিরভাগই প্রচলিত বেতন আকারে নয়। বরং তিনি এমন শেয়ারভিত্তিক পুরস্কার পান, যা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। উদাহরণ হিসেবে টেসলায় ১০ লাখ মানবসদৃশ রোবট সরবরাহের মতো লক্ষ্য পূরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পুরস্কারের মূল্য একই ধরনের প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের পারিশ্রমিকের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
শুক্রবার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা স্পেসএক্সের শেয়ার স্বাধীনভাবে কেনাবেচা করতে পারবেন। আর যদি শুক্রবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৪০ ডলারে উঠে যায়, তাহলে মঙ্গল গ্রহের উপনিবেশ এবং মহাকাশভিত্তিক তথ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত শেয়ারগুলো হিসাবের বাইরে রাখলেও মাস্ক কাগজে-কলমে একজন ট্রিলিয়নিয়ার হয়ে যাবেন।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর