ঢাকার সাভারে স্ত্রী রিয়া মনি (২১) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সাভার পৌর ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রনি চৌধুরী ওরফে রনি ইসলামকে (২৩) রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রংপুর জেলার কোতয়ালী থানার দারোগার মোড় সাতমাথা সবুজপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাভার মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার (মামলা নং-৪৩, তারিখ: ৮ জুন ২০২৬) এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রিয়া মনি সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুর রউফ ও মালয়েশিয়া প্রবাসী বিউটি বেগমের একমাত্র সন্তান। দীর্ঘ ছয় বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় দেড় বছর আগে রনি চৌধুরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা সাভারের ছায়াবীথি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সম্প্রতি বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ৮ জুন সকালে রনিই প্রথম তার মা রিনা আক্তারকে ফোন করে রিয়া মনির মৃত্যুর খবর জানান। পরে রিয়ার মামা সাদ্দাম হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের খাটের ওপর রিয়া মনির মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের বাবা-মা বিদেশে অবস্থান করায় তার মামা সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রনি চৌধুরীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে রিয়া মনিকে হত্যা করে বাসার দরজায় তালা লাগিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়।
মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুরে অভিযান চালিয়ে রনি চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে গ্রেপ্তারের আগে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন রনি। তার ভাষ্য, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন এবং ঘটনাটি দেখে ভীত হয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তিনি দাবি করেন, ৮ জুন ভোরে ঘুম থেকে উঠে পাশের কক্ষে গিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় স্ত্রীকে দেখতে পান। পরে তাকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে রাখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আত্মীয়-স্বজনের ভয়ে তিনি পালিয়ে যান বলেও দাবি করেন।
রনি আরও দাবি করেন, তিনি ২০২০ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে সাভার পৌর ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের কোনো দায়িত্বশীল নেতা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, রংপুর থেকে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই চলছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর