• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৮ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১৮ জুন, ২০২৬, ০৩:৩১ দুপুর

যেসব দেশে আটকে আছে ইরানের ১০ হাজার কোটি ডলার

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে ইরানের ১০ হাজার কোটি ডলারের (১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি) অর্থ আটকে রয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় এই অর্থ ফেরত পাওয়াই তাদের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে উঠে এসেছে। চীন ও ইরাকের ব্যাংক হিসাব থেকে শুরু করে কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এসব অর্থ আটকে আছে বলে জানা যায়।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার কারণে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তারা বিদেশে আটকে থাকা অন্তত ২৪০০ কোটি ডলার ধাপে ধাপে ছাড় করার দাবি জানাচ্ছেন।

তবে এই অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব রয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, বিদেশে তাদের মোট আটকে থাকা সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের এই সময়ে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, ইরানের তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু, আটকে থাকা সম্পদ ফেরত এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গঠনের পথ খুলতে পারে।

চীন সবচেয়ে বড় অংশের অংশীদার

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং অন্যান্য সূত্র অনুযায়ী, ইরানের আটকে থাকা সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ চীনে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়—যার পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই অর্থ মূলত চীনের কাছে দীর্ঘদিন ধরে তেল বিক্রির মাধ্যমে জমা হয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানের সবচেয়ে বড় জ্বালানি ক্রেতা হিসেবে রয়ে গেছে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি লেনদেন সাধারণত ডলারনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব অর্থের বড় অংশ সরাসরি তেহরানের হাতে পৌঁছায়নি।

জানা যায়, কিছু তহবিল চীনে পণ্য ও যন্ত্রপাতি কেনার কাজে ব্যবহার করা হলেও একটি বড় অঙ্ক এখনো আটকে রয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮ সালের আগ পর্যন্ত তেল কেনার সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকশ কোটি ডলারের অর্থ ভারতের মতো দেশেও আটকে আছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অর্থ আটকে থাকার কারণ

বেশির ভাগ তহবিলই ইরানের তেল, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে এসেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংক ও বিভিন্ন দেশের সরকার এই অর্থ তেহরানে স্থানান্তর করতে পারছে না।

কিছু তহবিল কেবল খাদ্য ও ওষুধের মতো মানবিক পণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। বেশ কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্থানীয় মুদ্রায় এই অর্থ রাখা হয়েছে।

ইরাক, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া

ইরানের বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির বিপরীতে ইরাকের কাছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বাগদাদ এই অর্থের বড় অংশ সরাসরি তেহরানে স্থানান্তর করতে পারছে না।

ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছেও পৃথকভাবে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার করে ইরানের তেল বিক্রির অর্থ আটকে রয়েছে। ২০১৮ সালে ওয়াশিংটনের পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে এই দেশগুলো ছিল ইরানের বড় তেল ক্রেতা। পরবর্তীতে সেই লেনদেন থেকে সৃষ্ট অর্থ স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আটকে যায়।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বন্দিবিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হয়, যা মানবিক খাতে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে একই বছরের অক্টোবর মাসে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর এসব তহবিল ব্যবহারের শর্ত আরও কঠোর করা হয়।

জাপান, ওমান, লুক্সেমবার্গসহ আরও কয়েকটি দেশেও ছোট পরিসরে অর্থ আটকে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যা দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক বিধিনিষেধের জটিলতাকে নির্দেশ করে।

রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক আলোচনায় ইরান প্রাথমিকভাবে ৬০০ কোটি থেকে ১২০০ কোটি ডলার ছাড় করার দাবি তুলেছিল। অন্যদিকে মার্কিন আলোচনাকারীরা এসব তহবিল মানবিক ব্যয় ও ভবিষ্যৎ চুক্তি মেনে চলার নিশ্চয়তার সঙ্গে ধাপে ধাপে মুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তারা মোট অন্তত ২৪০০ কোটি ডলার আটকে থাকা অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা করছেন। খসড়া চুক্তিতে এই জব্দ সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা যায়।

বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা এই অর্থ পুনরুদ্ধার ইরানের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা তাদের সংকটাপন্ন অর্থনীতিকে পুনরায় স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই অর্থ এখন কেন গুরুত্বপূর্ণ

ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলার এখন ফেরত চায়। আটকে থাকা সম্পদ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি ফেরাতে পারে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় এসব আটকে থাকা অর্থ দর–কষাকষির প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এই অর্থ ফেরত পেলে তা তেহরানকে তাদের মুদ্রার মান স্থিতিশীল করতে, আমদানিতে অর্থায়ন করতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে।

সূত্র:গালফ নিউজ

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]