ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন চার শিক্ষার্থী হুইল চেয়ার পেয়ে নতুনভাবে শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পিইডিপি-৪ প্রকল্পের অর্থায়নে এই হুইল চেয়ারগুলো বিতরণ করা হয়।
গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে হুইল চেয়ার তুলে দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ।
উপস্থিত ছিলেন বিআরডিবি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথ এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, হুইল চেয়ার পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলো—মাইজবাগ ইউনিয়নের ৮১ নম্বর তারাটি নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মহিদুল্লাহ (১০), যার একটি পা অবশ; পস্তাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন (১০), যার দুটি পা-ই অবশ; কাঁঠাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন (১০), যার দুটি পা নেই; এবং উজানচর নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার (১০), যার দুটি পা-ই অবশ। এতদিন তারা বাবা-মায়ের কোলে চড়ে কিংবা হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করত।
কাঁঠাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেনের বাবা মাহবুব জানান, প্রথম শ্রেণি থেকে ছেলেকে কোলে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে লেখাপড়া করিয়েছি। এখন সে বড় হওয়ায় তাকে কোলে করে স্কুলে নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। হুইল চেয়ার পাওয়ার পর তাদের কষ্ট অনেকটাই কমে গেল। পস্তাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিনের বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, মেয়েকে কোলে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে সারাদিন বসে থাকতে হতো, ফলে কোনো কাজ করতে পারতেন না। এখন হুইল চেয়ার পাওয়ায় মেয়েকে সহজে স্কুলে পাঠাতে পারবেন এবং সংসারের কাজও করতে পারবেন। উজানচর নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিম আক্তারের মা পাপিয়া বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, এই হুইল চেয়ার না পেলে হয়তো তার মেয়ের লেখাপড়া এখানেই শেষ হয়ে যেত। এখন বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ সহজ হওয়ায় তারা খুব খুশি। তারাটি নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মহিদুল্লাহও হুইল চেয়ার পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, প্রতিবন্ধকতার কারণে কোনো শিশুর শিক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি চান না যে, একটি হুইল চেয়ারের অভাবে কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ুক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো শিশুর শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না।
সরকার চায় সব শিশু সমান সুযোগ পেয়ে শিক্ষিত ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক। এই হুইল চেয়ার তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং শিক্ষার মূলধারায় আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে সহায়তা করবে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর