সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেঁকী ছবিরুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টার পর তাদের উদ্ধার করেছে শ্যামনগর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ই জুন) গভীর রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে একই উপজেলার পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ছাত্রীরা হলো— শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আব্দুল হালিম গাজীর মেয়ে মোছা. আশামনি, মো. মুত্তাসিনের মেয়ে মোছা. দিঘি ইসলাম, মো. আজমলের মেয়ে মোছা. আজমিরা ও মো. অহিদুল ইসলামের মেয়ে মোছা. ছামিয়া। তারা সবাই স্থানীয় নওয়াবেঁকী ছবিরুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে চার ছাত্রী প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু স্কুল ছুটির পরও তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে একই দিন বিকেলে ছাত্রীরা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাদের অভিভাবকরা শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তদন্তে শ্যামনগর থানার একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ছাত্রীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের বাসিন্দা ও একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোছা. ছনিয়ার বাড়ি থেকে নিখোঁজ চার ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, "তারা চার বান্ধবী ঘুরতে বেরিয়েছিল। ইতিপূর্বে আকাশলীনা সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছে বলে জানা যায়। এবার তারা চারজন খুলনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। জিরো পয়েন্ট এলাকায় তাদের সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি দেখে এলাকাবাসী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কিন্তু তারা কোনো উত্তর দিতে না পারায় তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য শ্যামনগরের গাড়িতে উঠিয়ে দেন। শ্যামনগর নেমে তারা ভয়ে বাড়িতে না গিয়ে পার্শ্ববর্তী পদ্মপুকুর ইউনিয়নের তার বান্ধবীর বাড়িতে যায়।" ওসি আরও জানান, পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। যার ফলে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদেরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধারকৃত ছাত্রীরা বর্তমানে থানা হেফাজতে আছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর