রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের কলিমহর গ্রামের দিনমজুর গোলাম মোস্তফা, যিনি সরকারের দেওয়া ঘরে বাস করেন এবং অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করে সংসার চালান, বিগত চার মাস আগে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন।
মোস্তফা ক্ষেতে কাজ করার সময় আব্দুল মাজেদ নামের এক গাছ ব্যবসায়ী পাশেই গাছ কাটছিলেন। গাছ কাটার এক পর্যায়ে গাছ ফেলার জন্য দড়ি দিয়ে মোস্তফাকে সহযোগিতা করার জন্য মাজেদ ও জাহিদ তাকে ডেকে নিয়ে যান। সেই সময় মাজেদ গাছের অন্যপাশে একটি রশি বেঁধে রাখায় গাছ ফেলার সময় সেই গাছ দরিদ্র মোস্তফার পায়ের উপর পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠালেও তার পায়ের অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়।
বর্তমানে অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে এবং সরকারি ঘরে কলিমহর ভূমি অফিসের পাশেই তিনি ধুঁকে ধুঁকে প্রহর গুনছেন। স্থানীয়রা মোস্তফার চিকিৎসার জন্য কিছু সহায়তা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। তবুও সুচিকিৎসার জন্য আশায় বুক বেঁধে আছেন মোস্তফা।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত গাছ ব্যবসায়ী মাজেদ মোস্তফার কোনো খোঁজ নেননি। মোস্তফার অসহায় পরিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে।
এ বিষয়ে মোস্তফা বলেন, "আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে। আমি কি করে বাঁচব? জমি নেই, ঘর নেই, থাকি সরকারের দেওয়া ঘরে। আমি এখন মাজেদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিতে চাই। আমার এই দুর্ঘটনার জন্য মাজেদ দায়ী, আমি তার বিচার চাই।"
এ বিষয়ে গাছ ব্যবসায়ী আব্দুল মাজেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর