লর্ড লুকান নিখোঁজ হওয়ার পর তার গাড়ি তিন দিন পরে নিউহ্যাভেনে পাওয়া যায়। গাড়ির ভেতরে স্যান্ড্রা রিভেট ও লেডি লুকানের রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। পাশাপাশি হত্যার অস্ত্রের মতো একটি পাইপও উদ্ধার হয়।
এরপর শুরু হয় নানা জল্পনা। কেউ বলেন, তিনি সমুদ্রের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মারা গেছেন। আবার কেউ দাবি করেন, ধনী বন্ধুদের সাহায্যে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
একটি অদ্ভুত তত্ত্বে বলা হয়, তিনি আত্মহত্যা করে নিজের মরদেহ বন্ধুর ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানায় সিংহের খাবার হিসেবে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। যদিও এসব দাবির কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ধনী বন্ধুদের সাহায্যে পালানোর তত্ত্ব লর্ড লুকানের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একটি অভিজাত গোষ্ঠী ছিল, যাদের নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। ধারণা করা হয়, তারা হয়তো তাকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন।
কেউ কেউ দাবি করেন, তিনি বিদেশে চলে গিয়েছিলেন এবং গোপনে জীবন কাটিয়েছেন। আবার বিভিন্ন সময় বিশ্বের নানা জায়গায় তাকে দেখার দাবি উঠেছে। তবে কোনো দাবিই নিশ্চিত হয়নি।
রহস্যের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া স্যান্ড্রা রিভেট লর্ড লুকান রহস্যের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তার নিখোঁজ হওয়া ও অভিজাত পরিচয়। কিন্তু এই ঘটনার মূল শিকার স্যান্ড্রা রিভেট অনেক সময় আলোচনার বাইরে থেকে গেছেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, এই মামলায় স্যান্ড্রার নিজের বক্তব্য আর কখনো জানা সম্ভব নয়। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ নারী, যিনি এক ভয়াবহ ঘটনার শিকার হয়েছিলেন।
আজও লর্ড লুকান কোথায় আছেন, তিনি সত্যিই মারা গেছেন নাকি কোথাও নতুন পরিচয়ে বেঁচে আছেন তার উত্তর অজানা। আর সেই কারণেই এই মামলা ব্রিটেনের সবচেয়ে আলোচিত ও রহস্যময় অপরাধ কাহিনির তালিকায় রয়ে গেছে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর