৩৯ বছরের মুখে দাঁড়িয়ে তার গোলক্ষুধা যেন কমছেই না। প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পর দ্বিতীয় ম্যাচে করলেন জোড়া গোল। দল জিতল ২-০ গোলের ব্যবধানে। সেই লিওনেল মেসির পাঁচ গোলেই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হলো আর্জেন্টিনা।
সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। আগের ম্যাচের মতো এ ম্যাচও হয়ে থাকল মেসিময়। ৩৮ মিনিটের পর নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি টাইমে গোল করলেন আরেকটি। নিশ্চিত হলো আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় রাউন্ড।
ম্যাচের শুরুতেই লিওনেল মেসির সামনে ছিল ইতিহাসের হাতছানি। শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা অস্ট্রিয়াকে চেপে ধরলে সমর্থকরা ধরেই নিয়েছিলেন, সেই ইতিহাসে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগবে না মেসির। ৮ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেলে এগিয়ে যান মেসি। তখন সবাই ধরেই নিয়েছিলেন, ইতিহাস বুঝি হয়েই গেল। কিন্তু না! লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে পেনাল্টি মিস করলেন মেসি।
গোল মিস হলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণের ধার কমেনি। ১৯তম মিনিটে ফের গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যান মেসি। তবে তার শটটি পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শ্লাগার।
শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ৩৮ মিনিটে। থিয়াগো আলমাদা আক্রমণের সূচনা করেন। বাম দিকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। সেখান থেকে ফাকুন্দো মেদিনা নিচু ক্রসে বল পঠিয়ে দেন ডি-বক্সে। সেখানে এনজো ফের্নান্দেজ শট নেওয়ার চেষ্টাই করেননি। তার পেছন থেকে এগিয়ে এসে সেই বাঁ পায়ের ট্রেডমার্ক শট গোলরক্ষকের জন্য সবচেয়ে দুরূহ স্থানটি দিয়ে খুঁজে নেয় জাল। উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা আর্জেন্টিনা শিবির, সারা বিশ্বের আর্জেন্টাইন সমর্থকরা।
বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির ১৭তম গোল। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ১৬ গোল নিয়ে তিনি বসেছিলেন জার্মান স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে। এবার তাকে ছাড়িয়ে একা উঠে গেলেন বিশ্বকাপের গোলের চূড়ায়।
বিরতির আগে আর খুব একটা সুযোগ তৈরি হয়নি। অস্ট্রিয়া ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেও সুবিধা করে উঠতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও ফের অস্ট্রিয়াকে চেপে ধরে আর্জেন্টিনা। ৫০ মিনিটে গোলমুখে আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। নিকোলাস সাইভাল্ড সে বিপদ সামাল দেন। পরে অবশ্য অফসাইডের পতাকাও ওঠে।
অস্ট্রিয়াও হাল ছেড়ে দেয়নি। বরং ৫৪ মিনিটে দুর্দান্ত একটি সুযোগ তৈরি করে। ফ্রি-কিক থেকে মার্সেল সাবিৎসারের জোরালো শট ধেয়ে যায় গোলবার লক্ষ্য করে। তবে অতন্দ্র প্রহরী এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে ফাঁকি দিতে পারেনি। বিপদমুক্ত হয় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধের বাকিটা সময় খুব বেশি স্পষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। অস্ট্রিয়াকে চেপে ধরার চেষ্টা করেছে আর্জেন্টিনাকে। কিন্তু আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তাদের সেসব আক্রমণ চূড়ান্ত লক্ষ্য পর্যন্ত যেতে পারেনি। এ অবস্থায় ১-০ গোল ব্যবধানেই খেলা শেষ হয়ে আসছিল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর রেফারি ইনজুরি টাইম দিয়েছিলেন ৫ মিনিট। ঠিক শেষ মিনিটে সবাই যখন রেফারির শেষ বাঁশির অপেক্ষায়, তখন আরও একবার মেসি ম্যাজিক। নিজেই শুরু করেছিলেন আক্রমণ। মাঝ মাঠ থেকে দারুণ পাস বাড়িয়ে দেন বাঁ দিকে অনেকটা ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা হুলিয়ান আলভারেজকে।
৯২ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয় মিসরের, সালাহর জাদুতে হারল নিউজিল্যান্ড৯২ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয় মিসরের, সালাহর জাদুতে হারল নিউজিল্যান্ড গত বিশ্বকাপে এমন পাস পেয়ে গোল পেয়েছিলেন আলভারেজ। এ দিন আর পেরে ওঠেননি। তার শট ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শ্লাগার। ফিরতি বলে আবারও হাজির মেসি। মেসিরও প্রথম চেষ্টা প্রতিহত হয় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে। কিন্তু ডি-বক্সের মধ্যে মেসির সেই চিরচেনা ক্ষিপ্রতা ফিরে আসে। বাঁ দিকে এগিয়ে গিয়ে অস্ট্রিয়ার পাঁচ খেলোয়াড়ের ফাঁক দিয়ে সেই বাঁ পায়ের শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে।
২-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মেসিও বিশ্বকাপে গোলের টালিকে উন্নীত করেন ১৮তে। ওই গোলের মিনিটখানেক পরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।
এই জয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে গেছে আর্জেন্টিনার। দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা শেষ ৩২-এ যোগ দিয়েছে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির সঙ্গে। ‘জে’ গ্রুপে শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ জর্ডানের বিপক্ষে। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া। জর্ডান ও আলজেরিয়া এখনো পয়েন্টের মুখ দেখেনি। সকালে তারা মুখোমুখি হবে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর