যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের আবারও ইরানে কাজ করার অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে তেহরান—এমন দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
সোমবার (২৩ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আইএইএ পরিদর্শকদের ফের ইরানে প্রবেশ ও কাজ করার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি মার্কিন জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একই সঙ্গে এটি ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করছে। তারও আগে একই বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকেই তেহরান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থার সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
আইএইএর মহাপরিচালকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুনে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘোষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হলে মাঠপর্যায়ের সব যাচাই ও পরিদর্শন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে চলতি জুন মাসের শুরুতে একটি স্থাপনায় সীমিত পরিসরে পরিদর্শন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
ভ্যান্স জানান, সোমবার ভোররাত প্রায় ২টার দিকে মার্কিন কর্মকর্তারা আইএইএ পরিদর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, যাতে পরিদর্শন কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু করা যায়। তিনি বলেন, “সবাই ফোন ধরেননি, তবে আমরা আশা করছি আজই আইএইএ এবং পরিদর্শকদের সঙ্গে কিছু আলোচনা শুরু হতে পারে।”
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় নির্ধারিত দুই মাসব্যাপী আলোচনার প্রথম ধাপ। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির ঘোষণা দেন।
তবে গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলার হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তা সত্ত্বেও ভ্যান্স জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কূটনৈতিক সমাধান ও শান্তি আলোচনার পথেই এগোতে চায়।
তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট আপাতত আলোচনার পথেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব এবং দেখব, কী অর্জন করা সম্ভব।”
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর