বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হতে পারে। এই ঘোষণার পর থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নড়েচড়ে বসেছেন। যোগ্য, অযোগ্য নির্বিশেষে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ভোটের প্রস্তুতি নিতে মাঠে নামতে শুরু করেছেন।
দলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতারা সাময়িক অভিমান পুষে রাখলেও সঠিক সময়ে দলের পাশে ঢাল হয়ে থাকবেন বলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আশা। এক্ষেত্রে তাঁদের সঠিক মূল্যায়নই পারে সঠিক পথে পরিচালিত করতে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার তেমনি একজন নির্যাতিত ও অবহেলিত নেতা তাঁর সঠিক মূল্যায়নের প্রত্যাশা করছেন। পীরগঞ্জ পৌরসভার রঘুনাথপুর এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে জয়নাল আবেদীন বিএনপির দুঃসময়ের কাণ্ডারী হিসেবে পরিচিত।
জয়নাল আবেদীন পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান যখন ঠাকুরগাঁও সফরে এসে পীরগঞ্জেও গিয়েছিলেন, তখন তাঁর হাত ধরেই জয়নাল আবেদীন বিএনপিতে যোগ দেন এবং তারপর থেকে আর পিছু ফেরেননি। ১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকারের আমলে তিনি একটি রাজনৈতিক মামলায় অভিযুক্ত হন, নির্যাতনের শিকার হন এবং বাড়িছাড়া হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি তিনটি ইউনিয়ন কমিটি গঠনের দায়িত্ব পান এবং সফলভাবে তা সম্পন্ন করেন। তিনি দুইবার পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সেবা পৌঁছে দিয়েছেন। বর্তমান সরকারের আমলে তিনি দুটি মামলার শিকার হন এবং ফেরারি জীবন যাপন করেন। তাঁর রাইসমিলের লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তাঁর বড় ছেলে ডা. আবু সায়েম ৩৯তম বিসিএস-এ উত্তীর্ণ হলেও বিএনপি করার কারণে সুপারিশ পাননি। ২০২৩ সালে কৃষক দলের বিভাগীয় সমাবেশে দিনাজপুর যাওয়ার পথে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুশয্যায় দিনাজপুরে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন। বিগত ২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।
পীরগঞ্জ পৌরসভার তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন যে আগামী পৌরসভা নির্বাচনে এমন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বিএনপির হয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর