ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ‘৭-১’ সংখ্যা শুনলেই ভেসে ওঠে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই দুঃস্বপ্নের রাত। নিজ দেশের মাটিতে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের লজ্জাজনক হারের ক্ষত এখনও অনেক ব্রাজিল সমর্থকের মনে তাজা।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘৭-১’ আবারও ফিরে এসেছে ব্রাজিলের সঙ্গে। পার্থক্য শুধু একটাই এবার এটি কোনো দুঃস্বপ্ন নয়, বরং দাপটের প্রতীক।
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ঠিক ৭-১। অর্থাৎ তিন ম্যাচে সেলেসাওরা করেছে ৭ গোল, আর হজম করেছে মাত্র ১টি।
ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের ফলাফল:
ব্রাজিল ১-১ মরক্কো
ব্রাজিল ৩-০ হাইতি
ব্রাজিল ৩-০ স্কটল্যান্ড
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারালেও পরের দুই ম্যাচে টানা দুটি ৩-০ জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দলের আক্রমণভাগে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র । তিন ম্যাচে তিনি করেছেন ৪ গোল। অন্যদিকে মাতেউস কুনিয়া যোগ করেছেন আরও ৩ গোল। অর্থাৎ ব্রাজিলের সাত গোলই এসেছে এই দুই তারকার পা থেকে।
মজার বিষয় হলো, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ভিনিসিয়ুস তার প্রথম গোলটি করেন ম্যাচের ৭ মিনিটে। আর সেই ম্যাচের পরই ব্রাজিলের মোট গোল ব্যবধান গিয়ে দাঁড়ায় ৭-১! ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থকই ‘৭’ সংখ্যার এই অদ্ভুত মিল নিয়ে রসিকতা শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ‘৭-১’ ছিল ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি। কিন্তু ২০২৬ সালে একই সংখ্যা যেন নতুন এক বার্তা দিচ্ছে ব্রাজিল এখন আর সেই ভেঙে পড়া দল নয়, বরং শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
ফুটবলে কাকতালীয় ঘটনার অভাব নেই। তবে ব্রাজিল সমর্থকরা নিশ্চয়ই চাইবেন, এবার ‘৭-১’ সংখ্যাটি তাদের জন্য শুধু আনন্দের স্মৃতিই বয়ে আনুক, কোনো দুঃস্বপ্ন নয়।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর