১৮২ দিন পর কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় দানবাক্স খুলে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে এবারের দান।
মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চার শতাধিক মানুষের একটি দল এসব বস্তাভর্তি টাকা গণনার কাজে অংশ নিচ্ছেন। তিন মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার বিভিন্ন কারণে ৬ মাস পর দানবাক্স খোলা হয়। এ কারণে এবার নতুন করে বসানো হয়েছে আরও দুটি দানবাক্স।
টাকা গণনায় অংশ নেন পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদরাসার ১১০ জন, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদরাসার ৩০০ জন ছাত্র, মসজিদের ৩৩ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে দানবাক্স থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
দানবাক্স খোলার খবর শুনে মসজিদের আশপাশে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিয়ত হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলসহ নানা ধরনের জিনিসপত্র দান করেন অনেকে।