মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে করা গোলটি ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল না হলে হয়তো সরাসরিই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলত ইরান। কিন্তু ১-১ গোলের ড্রয়ে বিশ্বকাপে তাদের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে অন্য দলগুলোর ফলাফলের ওপর।
গ্রুপ ‘জি’-এর শেষ ম্যাচে মিসরের সঙ্গে ড্র করে তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট ও শূন্য গোল ব্যবধান নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে ইরান। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই মাহমুদ সাবেরের গোলে পিছিয়ে পড়ে এশিয়ার প্রতিনিধিরা। এরপর ১০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন মেহেদি তারেমি। তবে চার মিনিট পর রামিন রেজাইয়ানের গোলে সমতায় ফেরে ইরান।
ম্যাচের স্টপেজ টাইমে শোজা খলিলজাদেহ বল জালে পাঠিয়ে ইরানকে জয় এনে দিয়েছেন বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ভিএআরের পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। ফলে সরাসরি শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করতে পারেনি দলটি।
ইরানের সামনে এখন কী সমীকরণ?
বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, ১২টি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। বর্তমানে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর তালিকায় ইরান রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, উরুগুয়ে ও স্কটল্যান্ডের ওপরে। শেষ বত্রিশে উঠতে হলে অন্তত একটি দলকে ইরানের নিচে থাকতে হবে।
এখন ইরানের ভাগ্য নির্ভর করছে শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তিনটি গ্রুপের শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর। নিচের যেকোনো একটি পরিস্থিতি তৈরি হলেই নকআউটের টিকিট পেয়ে যাবে মেহেদি তারেমিরা—
ক্রোয়েশিয়ার হার: ‘জে’ গ্রুপে ঘানার কাছে যেকোনো ব্যবধানে হারলে বিদায় নেবে ক্রোয়েশিয়া এবং লাভবান হবে ইরান।
আলজেরিয়ার হার: ‘কে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হারলে আলজেরিয়া ইরানকে টপকাতে পারবে না।
অস্ট্রিয়ার হার: একই গ্রুপে আলজেরিয়ার কাছে অস্ট্রিয়া হারলেও ইরানের সুযোগ তৈরি হবে।
ডিআর কঙ্গো-উজবেকিস্তান ড্র: ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচটি ড্র হলে কোনো দলই পয়েন্টে ইরানকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে না।
উজবেকিস্তানের স্বল্প ব্যবধানে জয়: উজবেকিস্তান যদি ডিআর কঙ্গোকে আট গোলের কম ব্যবধানে হারায়, তাহলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেবে ইরান।
সব মিলিয়ে, শনিবার রাতের কয়েকটি ম্যাচের ফলের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে ইরানকে। সমীকরণ অনুকূলে এলে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত হবে মেহেদি তারেমিদের, অন্যথায় গ্রুপ পর্বেই শেষ হবে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর