• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৫ সেকেন্ড পূর্বে
এহসানুল হক মিয়া
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২৬, ০৮:৫৯ সকাল

লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিশেহারা কৃষক, ডোবায় ফেলে প্রতিবাদ 

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এবং সংরক্ষণ সংকটে পড়ে ফরিদপুরের সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার অনেক কৃষক প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে পেঁয়াজ ডোবা ও পুকুরের পানিতে ফেলে দিচ্ছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য অনেক কম হওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

ফরিদপুরে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় সালথা ও নগরকান্দার ১৮টি ইউনিয়নে। বছরের পর বছর এ অঞ্চলের কৃষকরা পেঁয়াজ চাষের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করলেও চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি তাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক হয়ে উঠেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, এ বছর হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয়েছে। কিন্তু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে কিংবা সরকারি এয়ারফ্লো মেশিনের মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত গরমে দ্রুত পচে নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে বাজারে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, যেখানে উৎপাদন খরচই পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা।

সালথার কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, সরকারি এয়ারফ্লো মেশিন ব্যবহার করেও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করায় তার প্রায় ৩৫০ মণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে প্রতিবাদ হিসেবে সেগুলো পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কৃষক দাউদ মাতুব্বর বলেন, বর্তমান বাজারদরে পেঁয়াজ বিক্রি করলে উৎপাদন খরচও ওঠে না। সংরক্ষণ ব্যয় যোগ হলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ছে। আরেক কৃষক আবুল মাতুব্বর বলেন, কৃষকের এই সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী মৌসুমে অনেকেই পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হবেন।

কৃষকদের দাবি, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেশীয় পেঁয়াজে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সরকারিভাবে সরবরাহ করা এয়ারফ্লো মেশিন অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মেশিন সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে সংরক্ষিত পেঁয়াজও দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সালথা উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৫৬৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। উন্নতমানের বীজের অভাব, উচ্চমূল্য, উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ ২৫.১৫ টাকা হলেও প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২.৫০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে কৃষকের লোকসান ২.৬৫ টাকা।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বিডি২৪লাইভকে জানান, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। পেঁয়াজের মূল্য কম থাকায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলে পরবর্তী বছর উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণে সহায়তার জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ১ হাজার ৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। চলতি বছর ইতোমধ্যে ৭০০টি বিতরণ হয়েছে এবং আরও প্রায় আড়াই হাজার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]