যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ক্রেতাদের বাড়িতে সরাসরি বন্দুক পৌঁছে দেওয়ার একটি নতুন নীতিমালার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস ব্যুরো (ATF)। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে অনলাইনে অস্ত্র বিক্রির বাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একজন হতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প জুনিয়র অনলাইন অস্ত্র বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান GrabAGun-এর একজন শেয়ারধারী ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। প্রতিষ্ঠানটি গত বছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। নতুন নীতিমালা অনুমোদিত হলে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি ও বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যার ফলে ট্রাম্প জুনিয়রেরও বিপুল আর্থিক লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে আগ্নেয়াস্ত্র কেনা গেলেও ক্রেতাকে নির্ধারিত অস্ত্রের দোকানে গিয়ে পরিচয় ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই শেষে অস্ত্র সংগ্রহ করতে হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, অনলাইন পরিচয় যাচাই, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পর সাত দিনের অপেক্ষাকাল শেষে লাইসেন্সধারী বিক্রেতারা একই অঙ্গরাজ্যের ক্রেতার বাড়িতে সরাসরি অস্ত্র পাঠাতে পারবেন।
ATF-এর হিসাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রতিবছর প্রায় ৩৩ লাখ অস্ত্র ক্রেতা এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। সংস্থাটির দাবি, এতে ক্রেতাদের সময় ও যাতায়াত ব্যয় কমবে এবং বছরে প্রায় ১০৩.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে।
তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণপন্থী সংগঠনগুলোর দাবি, বাড়িতে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ চালু হলে অবৈধ অস্ত্র পাচার, ডাকযোগে অস্ত্র চুরি এবং অন্যের পরিচয়ে অস্ত্র কেনার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ছোট অস্ত্র ব্যবসায়ীরাও আশঙ্কা করছেন, এতে তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, কারণ বর্তমানে অনলাইনে বিক্রি হওয়া অস্ত্র তাদের দোকানের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্প জুনিয়রের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই নীতিমালা প্রণয়নে তার কোনো ভূমিকা নেই। তিনি শুধুমাত্র একজন বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। ATF-ও জানিয়েছে, নীতিমালার খসড়া তৈরির সময় ট্রাম্প জুনিয়রের বিনিয়োগের বিষয়টি তাদের বিবেচনায় ছিল না এবং এতে তার কোনো প্রভাবও ছিল না।
বর্তমানে প্রস্তাবটি জনমত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। জনমত পর্যালোচনার পর এটি চূড়ান্ত করা হবে, সংশোধন করা হবে নাকি বাতিল করা হবে—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর