ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে দেখা মিলেছে খামেনির তিন ছেলে—মাসুদ, মেইসাম ও মোস্তফা খামেনির।
রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেন মোহসেনি এজেই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি।
এ ছাড়া আইআরজিসির কমান্ডার আহমদ ভাহিদিকেও জানাজায় উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ইরানের জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি।
তবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন খামেনির আরেক ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি জানাজায় উপস্থিত ছিলেন না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ইসরায়েলের সম্ভাব্য হত্যার হুমকির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তাকে জনসমক্ষে আনা হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানায়, জানাজার নামাজ শুরুর অনেক আগেই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা চত্বর লাখো শোকার্থীতে পূর্ণ হয়ে যায়। বিভিন্ন প্রদেশ থেকে মানুষ খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে জড়ো হন।
এদিকে আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে জানাজার পর সোমবার তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
খামেনির জানাজায় তিন ছেলের উপস্থিতি এবং মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আইআরএনএ, তাসনিম নিউজ
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর