দুই পেনাল্টি, এক লাল কার্ড আর টানটান উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। একসময় দশজনের দলে পরিণত হলেও থমাস টুখেলের শিষ্যরা ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোকে কাদিয়ে বিদায় করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে প্রথম গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ড। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড ও ডেকলান রাইসের দ্রুত বিল্ডআপের পর বুকায়ো সাকার বাড়ানো বল হ্যারি কেইনকে ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যায় জুড বেলিংহ্যামের কাছে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার।
দুই মিনিট পর আবারও জ্বলে ওঠেন বেলিংহ্যাম। হ্যারি কেইনের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু খেলে এবং এলিয়ট অ্যান্ডারসনের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।
যদিও বিরতির আগে ব্যবধান কমায় স্বাগতিক মেক্সিকো। একটি ফ্রি-কিক থেকে প্রতিহত হওয়া বল পেয়ে জুলিয়ান কুইনোনেস ভলিতে জাল খুঁজে নেন। প্রথমার্ধের শেষদিকে রাউল হিমেনেস সমতাসূচক গোলের দারুণ সুযোগ পেলেও জর্ডান পিকফোর্ডের অসাধারণ সেভে বেঁচে যায় ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৫৪তম মিনিটে। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জারেল কোয়ানসা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশজনের দলে পরিণত হয় ইউরোপীয়রা।
তবে সংখ্যায় পিছিয়ে থেকেও ৬০তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় ইংল্যান্ড। বক্সে ফাউলের পর পাওয়া পেনাল্টি থেকে হ্যারি কেইন নিখুঁত শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন।
হার না মানা মেক্সিকো দ্রুতই ম্যাচে ফেরে। ৬৯তম মিনিটে তারাও পেনাল্টি পায় এবং স্পট কিক থেকে রাউল হিমেনেস গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন। এরপর একাধিক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে চাপে রাখে স্বাগতিকরা।
শেষ সময়ে দশজনের ইংল্যান্ডকে ঘিরে অবিরাম চাপ সৃষ্টি করলেও পিকফোর্ডের দৃঢ়তা, রক্ষণভাগের আত্মত্যাগী পারফরম্যান্স এবং সময়োপযোগী ডিফেন্সিভ সংগঠনের কারণে আর সমতায় ফিরতে পারেনি মেক্সিকো।
ফলে রুদ্ধশ্বাস এই লড়াইয়ে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। আর নিজেদের মাঠে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে পারল না স্বাগতিক মেক্সিকো।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর