স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন আগে হওয়াই বাস্তবক্ষেত্রে অধিক যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদ গঠনে ইউপি ও পৌরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা থাকায় এসব নির্বাচন আগে হওয়া প্রয়োজন। তবে কোন নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রিসিরি (আরএফইডি) ফল উৎসবে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকারের সীমানা নির্ধারণ ও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে সরকারকে চিঠি দিয়ে বলবো দ্রুত সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করার জন্য। একই সঙ্গে সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানের তালিকা ইসিকে দিতে সরকারকে অনুরোধও জানানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠান শূন্য আছে বলে মন্তব্য করেন আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ খালি পড়ে আছে। তবে একটা নির্বাচন আরেকটা নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনার। উপজেলা পরিষদে পদাধিকার বলে তার অন্তর্গত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা সদস্য। তাই পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচন না হলে উপজেলা পরিষদ গঠিত করা যায় না, তাই এটা পরে করতে হবে। তবে সিটি করপোরেশন আলাদা।
কোন নির্বাচনে আগে হবে এ বিষয়ে মাছউদ বলেন, নির্বাচন হয়ে যাবে। সব প্রতিষ্ঠান খালি আছে। আইনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। এখন সব নির্বাচন যাতে একত্রে আসছে, তাই আইনের বাধ্যবাধকতা পালন ওইভাবে সম্ভব হবে না। তবে, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সব নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্প্রদান করতে পারি। এক্ষেত্রে কোন নির্বাচন আগে হবে সে সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না। তবে এটা বুঝতে পারেন ইউপি ও পৌরসভা থেকে নির্বাচন শুরু হওয়া বাস্তবক্ষেত্রে অধিক যৌক্তিক। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনতো প্রশাসক দিয়ে চলছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মানুষের কোন নির্বাচনটা বেশি প্রয়োজন। সব নির্বাচন পেন্ডিং আছে, কিন্তু একসঙ্গে করা যাবে। এক্ষেত্রে মানুষের উপকারে কোনটা বেশি দরকার। কোথায় মানুষ মানুষ অসুবিধা বোধ করছে। সরকারের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হবে। তার ভিত্তিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করব।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচনে বহুলোক সংযুক্ত থাকে। সরকারের ইতিবাচক মনোভাব খুব প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের আপসহীন মনোভাব থাকা উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক মনোভাব সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইতিবাচক মনোভাব থাকতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা যখন সঠিক হয়, তখন নির্বাচন সঠিক হয়।
অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি ইসি শুরু করেছে উল্লেখ করে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি। পেছানো যায়, কিন্তু আগানো অসম্ভব। যেহেতু বহুলোকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অক্টোবরে নির্বাচন হবে এমন মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে অন্য সব প্রস্তুতি ইসি গ্রহণ করছে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মোঃ সানাউল্লাহ বলেন, 'স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব ধরনের প্রাক-প্রস্তুতি আমরা গ্রহণ করছি। ইতোমধ্যে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা, মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবৃন্দ সংসদে এ নিয়ে কথা বলেছেন। আমরা নির্বাচন কমিশনও নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া শুরু করেছি। আগামী সপ্তাহ থেকে আমাদের সিনিয়র সচিব মহোদয় ধারাবাহিকভাবে এ ব্যাপারে আপডেট করতে পারবেন।'
তিনি বলেন, 'আমরা ইতোমধ্যে আচরণবিধি নিয়ে কাজ করেছি, আচরণবিধি আমরা ওয়েবসাইটে দিয়ে দিয়েছি। আচরণবিধির ওপরে কিছু অবজারভেশন যাদের যা দেওয়ার কথা ছিল সেগুলো পেয়েছি। আমরা আইনগুলো ঘেঁটে দেখেছি তার মধ্যে যদি কোনো সমন্বয় করার প্রয়োজন হয় সে নিয়ে আমরা কাজ করছি।'
সীমানার প্রসঙ্গ তুলে এ কমিশনার বলেন, 'ডিলিমিটেশন যেটা স্থানীয় সরকার বিভাগ করে থাকেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো করে থাকেন, আমরা সেটার ব্যাপারে তাদের সাথে সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যাতে করে দ্রুততম সময়ে সেগুলো শেষ হয়ে যায়। তথা স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা আমাদের পর্যায় থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছি। আমাদের জাতীয় নির্বাচনের মতো করেই ইনশাআল্লাহ খুব সুন্দরভাবে একটা ভালো স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমাদের করতে হবে।'
আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দিন জেবেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম উদ-দৌলার সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর