২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে স্বপ্নের যাত্রা শেষ হয়েছে শেষ ষোলোতেই। তবে মাঠের লড়াইয়ে বিদায় নিলেও আর্থিক দিক থেকে বড় সাফল্য নিয়েই দেশে ফিরছে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মিশর। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে মোট ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৮ কোটি টাকা) পুরস্কার পাচ্ছে ইজিপশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দারুণ লড়াই উপহার দেয় মোহাম্মদ সালাহর দল। ম্যাচের একপর্যায়ে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। তবে শেষ মুহূর্তে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের নাটকীয় হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় মিশরকে।
হারলেও এই বিশ্বকাপ মিশরের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় আসর হয়ে থাকবে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নেওয়ার কীর্তি গড়েছে দলটি। রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে মিশর। এরপর আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও দীর্ঘ সময় আধিপত্য বিস্তার করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় তারা।
এবারের বিশ্বকাপে একাধিক নতুন রেকর্ডও গড়েছে মিশর। বিশ্বকাপের এক আসরে প্রথমবারের মতো পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে দলটি। পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল করে বিশ্বকাপের একক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডও গড়েছে মিশরীয়রা। দলের আক্রমণভাগে মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে।
মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও বড় পুরস্কার পেয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। ফিফার বর্তমান প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক ব্যয়ের জন্য অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ফেডারেশন পেয়েছে ২.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার জন্য দেওয়া হয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার। আর শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়ার পুরস্কার হিসেবে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত ৬ মিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে ফিফার কাছ থেকে মিশরের মোট প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৮ কোটি টাকার সমান। বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থ দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন, বয়সভিত্তিক দল গঠন, খেলোয়াড় তৈরির প্রকল্প এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা হলে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে মিশর।
যদিও বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের স্বপ্ন এবারও অধরাই রয়ে গেল, তবুও মাঠের পারফরম্যান্স, নতুন রেকর্ড এবং শত শত কোটি টাকার আর্থিক প্রাপ্তি সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশরের ফুটবল ইতিহাসে একটি সফল ও ইতিবাচক অধ্যায় হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর