• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৪ সেকেন্ড পূর্বে
আব্দুল ওয়াদুদ
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৬, ০২:৫৯ দুপুর

ঐতিহ্যবাহী খেরুয়া মসজিদ ও ৫০০ পরিবার পানি বন্ধী, চরম ভোগান্তি

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

৫শ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেরুয়া মসজিদ ও ৫০০ পরিবার এখন পানি বন্ধী, চরম ভোগান্তিতে স্থানীরা, মুসল্লি ও দর্শনার্থীরা শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা অবস্থিত মুঘল আমলের অনন্য কীর্তি ঐতিহাসিক খেরুয়া মসজিদ।

প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য দর্শনার্থী। কিন্তু বর্তমানে ঐতিহ্যের এই স্মারকটি পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য এক চরম ভোগান্তির নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।] বিগত সরকারের নানা উন্নয়নের গালভরা দাবির মুখে এক প্রকার চপেটাঘাত করে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে মসজিদে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, খেরুয়া মসজিদের চারপাশে এখন থইথই করছে পানি, আর আশপাশের প্রায় ৫০০ পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আজ রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। বিশ্বরোড থেকে টোলারগেট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। বৃষ্টির পানি জমে পুরো সড়কটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। কোনো কোনো স্থানে পানির গভীরতা এতটাই বেশি যে, পথচারীদের উরু পর্যন্ত পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

মসজিদে যাওয়ার মূল পথের অবস্থা আরও ভয়াবহ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত এই ঐতিহাসিক মসজিদের সামনের ইটের সলিং উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল সব গর্ত। নোংরা ও ঘোলা পানিতে রাস্তা তলিয়ে থাকায় বোঝার উপায় নেই কোথায় রাস্তা আর কোথায় মরণফাঁদ। জলাবদ্ধতার তীব্রতা এতটাই যে, রাস্তার ওপর জমে থাকা পানিতে স্থানীয় শিশুদের মনের আনন্দে মাছ ধরতেও দেখা গেছে, যা মূলত এই অঞ্চলের চরম অব্যবস্থাপনাকেই ফুটিয়ে তোলে। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত যানবাহন চলাচল করে। বর্তমানে অটোরিকশা, অটোভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নোংরা পানি পার হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

নিয়মিত নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা ইমরান, মেহেদী, হুমায়নসহ অনেকে বলেন, এক হাঁটু নোংরা পানি মাড়িয়ে মসজিদে আসতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টকর এবং পবিত্রতার পরিপন্থী। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা মসজিদের এই বেহাল দশা এবং যাতায়াতের দুরবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাঝপথ থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সামিউল, আরিফের অভিযোগ, আমাদের এখানে প্রায় ৫০০ পরিবারের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানালেও কেউ কথা শোনেনি। বাজারে যাওয়া, হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাওয়া কিংবা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো সব বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বাচ্চাদের নিয়ে আমরা সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি। ঐতিহাসিক একটি স্থাপনার চারপাশ এভাবে পানিতে ডুবে থাকলেও তা নিরসনে কোনো ড্রেনেজ বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ছয়-সাত মাস হয়েছে। দায়িত্বে আসার পর থেকেই সড়কটির এই বেহাল অবস্থা দেখছি।

বিশেষ করে গত ১০-১২ দিন ধরে রাস্তাটি পুরোপুরি পানির নিচে ডুবে আছে। কিন্তু এখানে পানি নিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থা নেই। সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খেরুয়া মসজিদের মতো একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের গুরুত্ব বিবেচনা করে অনতিবিলম্বে এখানে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ ও সড়কটি সংস্কার করা হোক। তা না হলে চলমান বর্ষা মৌসুমে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে এবং যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি। এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, বিষয়টি শুনেছি অতিদ্রুত সরে জমিনে পরিদর্শণ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবং জনদুর্ভোগ থেকে মানুষ যেন মুক্তি পায় সেই ব্যবস্থা করা হবে।

সাজু/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]