সুপ্রিম কোর্টে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের নিষ্পত্তি না করে, মাঠ প্রশাসনের প্রতিবেদন ও জনমতের সুস্পষ্ট মতামত উপেক্ষা করে সদ্য ঘোষিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সঙ্গে ১১ নং সুয়াবিল ইউনিয়নকে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম।
গতকাল রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান সংগঠনের নেতারা । এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া। ইঞ্জিনিয়ার সাখাওয়াত হোসেন সবুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মো: নুরুল আলম নুর, মোরশেদুল আলম, মো: মোজাম্মেল হক, মো: আখতার, নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় অনেক সাধারণ জনগন।
এই সময় তারা এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের কাছে চারটি বিনীত কিন্তু দৃঢ় দাবি জানায়-
প্রথমত, ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা থেকে ১১ নং সুয়াবিল ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, এলাকাবাসীর মতামত, ভৌগোলিক বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে পুনরায় নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে।
তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয়সমূহ নিষ্পত্তির পূর্বে কোনো চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
চতুর্থত, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ায় উপজেলা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
তারা দাবি করেন, প্রশাসনিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে তারা ঘোষিত নতুন উপজেলা থেকে সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার ওই তিনটি ওয়ার্ড বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারির এক নির্দেশনায় সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড বাদ দিয়ে নতুন প্রস্তাব প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছিল। নাজিরহাট পৌরসভার এই তিনটি ওয়ার্ড এক সময় সুয়াবিল ইউনিয়নের অন্তর্গত ছিল।
আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই—এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ জনস্বার্থভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ এবং ন্যায়সঙ্গত নাগরিক আন্দোলন।
আমাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং যৌক্তিক।
কারণ—
• সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত।
• জনগণের মতামত গ্রহণ না করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
• ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বাস্তবতা এই সংযুক্তির পক্ষে নয়। কারণ বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন হতে প্রস্তাবিত "ফটিকছড়ি উত্তর" উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২০ কি.মি. অথচ ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র ৪.৫-৫ কি.মি.।
• অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং যানবাহনের অপ্রতুলতার কারণে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবার পরিবর্তে বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়নের অধিবাসীদের দূর্ভোগ আরো অনেকগুন বাড়বে।
• বিচারাধীন বিষয় নিষ্পত্তির আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মতামতই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
সবশেষে সাংবাদিকদের তারা বলেন, আমাদের আজকের সংবাদ সম্মেলনের উদ্দ্যেশ্য গত ১ জুলাই ২০২৬ ইংরেজি “নিকার” সভায় অনুমোদিত “ফটিকছড়ি উত্তর” উপজেলা হতে ১১ নং সুয়াবিল ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাহার ও পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। তাই আমরা বিশ্বাস করি, সরকার জনগণের ন্যায্য দাবি, আদালতের নির্দেশনা এবং বাস্তব পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।
আমাদের আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ, আছে শান্তিপূর্ণ এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ থাকবে। তবে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ, সচেতন এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর