আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের আরেকটি বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইকে ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে লিওনেল স্কালোনি ও ডেভিড বেকহ্যামের পুরোনো এক উত্তপ্ত সংঘর্ষ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সফল কোচ হওয়ার অনেক আগে, দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার জার্সিতে খেলতে গিয়ে লা লিগার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বেকহ্যামের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়েছিলেন স্কালোনি।
ঘটনাটি ঘটে রিয়াল মাদ্রিদ ও দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার মধ্যকার এক নাটকীয় ম্যাচে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শেষ দিকে রাউলের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। সেই গোলই কার্যত শিরোপা নিশ্চিত করে দেয় স্বাগতিকদের, আর দেপোর্তিভোর শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে যায়।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মাঝমাঠে পেছন থেকে স্কালোনিকে ট্যাকল করেন ডেভিড বেকহ্যাম। দুজনই মাটিতে পড়ে যান। উঠে দাঁড়িয়েই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান স্কালোনি। হতাশা ও উত্তেজনা মিলিয়ে তিনি বেকহ্যামের মুখোমুখি হন। বেকহ্যামও পিছিয়ে না আসায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও টানাহেঁচড়া শুরু হলে রবার্তো কার্লোসসহ উভয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের আলাদা করেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই রেফারি হস্তক্ষেপ করে দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান।
বহু বছর পর সেই ঘটনা স্মরণ করে স্কালোনি বলেন, ম্যাচের পরিস্থিতিই তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গিয়েছিল। তার ভাষায়, “আমরা তাদের মাঠে শিরোপার জন্য লড়ছিলাম। ম্যাচ শেষ হতে তখন মাত্র তিন মিনিট বাকি, আর ঠিক তখনই তারা ২-১ গোলে এগিয়ে যায়।”
তিনি জানান, শেষ বাঁশি বাজার পরও সেই হতাশা কাটিয়ে ওঠা সহজ ছিল না। বেকহ্যাম যখন বার্নাব্যুর দর্শকদের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনে ব্যস্ত, তখনও তিনি হারের কষ্ট সামলানোর চেষ্টা করছিলেন। স্কালোনির মতে, ঘটনাটি ছিল তার লড়াকু মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বরাবরই ইতিহাসে সমৃদ্ধ। অসংখ্য স্মরণীয় ম্যাচ ও বিতর্কের ভিড়ে স্কালোনি-বেকহ্যামের এই সংঘর্ষও যোগ করেছে নতুন একটি অধ্যায়।
এর মাত্র এক বছর আগে, ২০০২ বিশ্বকাপে বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। সেই পরাজয় শেষ পর্যন্ত মার্সেলো বিয়েলসার আর্জেন্টিনার গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার যখন বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড, তখন স্কালোনি আর মাঠের ডানপ্রান্তে ছুটবেন না। এবার তিনি থাকবেন ডাগআউটে। লক্ষ্য থাকবে দলকে জয় এনে দেওয়া—আর হয়তো দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বয়ে বেড়ানো এক অপূর্ণ হিসাবও চুকিয়ে নেওয়া।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর