টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও খাগড়াছড়িতে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে পুনর্বাসন ও সুপেয় পানির সংকট। বিশেষ করে দীঘিনালা উপজেলার দুর্গত এলাকার অবস্থা খুবই নাজুক। এই পরিস্থিতিতে সোমবার সকালে খাগড়াছড়ির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নে বন্যাপিড়ীত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
ত্রাণ বিতরণ শেষে সচিব বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাঁদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি বলেন, 'সরকার এই দুর্যোগে পুরোপুরি দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে। তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে টেকসইভাবে পুনর্বাসন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।' তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন, যেন কোনো প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
পরিদর্শনকালে সচিবের সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. এন. আবছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন, দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এদিকে, গত শনিবার সকাল থেকে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট থেকে বন্যার পানি সম্পূর্ণ নেমে গেলেও চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মেরুং এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল আলী নিজের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, 'ঘর থেকে পানি নামলেও চারপাশ এখন ঘন কাদায় থৈ থৈ করছে। এলাকার টিউবওয়েলগুলো বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের চাল-ডালের পাশাপাশি পুনর্বাসন আর সুপেয় পানির বেশি প্রয়োজন।"
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে কৃষি ও মৎস্য খাতে রেখে যাওয়া ক্ষতগুলোও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রাথমিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জেলার প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধান ও সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া ঢলে ভেসে গেছে অর্ধশতাধিক পুকুরের মাছ।
কবাখালী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত চাষী মো. বোরহান উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, 'আমার দুই কানি জমির বীজতলা পচে গেছে। পুকুরের লাখ টাকার মাছও শেষ। সরকারি বিশেষ প্রণোদনা ছাড়া এবার আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।'
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো থেকে পানি নেমে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। যদিও দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের একটি অংশ দেবে যাওয়ায় বর্তমানে ভারী যানবাহন চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।
সার্বিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলা প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, 'পানি নেমে যাওয়ার পর আমাদের মূল লক্ষ্য এখন পুনর্বাসন। দুর্গত এলাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়ানো রোধে মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষীদের জন্য দ্রুত বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।'
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর