• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৭ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২৬, ০২:৫৭ দুপুর

ইউক্রেন সরকারে বড় রদবদল, নতুন প্রধানমন্ত্রী খুঁজছে প্রেসিডেন্ট

রয়টার্স

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দেশটির পার্লামেন্টে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ সপ্তাহেই এ বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সরকারের কার্যক্রমে নতুন গতি ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতেই এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রবিবার এক ঘোষণায় তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক বছর পর সভিরিদেঙ্কো প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন। তার আকস্মিক অপসারণের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

তবে সমালোচকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মতো সংকটপূর্ণ সময়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এমন পরিবর্তন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

এই রদবদল এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইউক্রেন রাশিয়ার আরও তীব্র হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। দেশটির সংসদ সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেৎসকি, জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল এবং বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। এই তিনজনকেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার পর জেলেনস্কি সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের ছবিও প্রকাশ করেছেন। ইউক্রেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী পদে একজনকে মনোনয়ন দেন। এরপর সেই প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগের জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে চান। তার মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউক্রেন মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করতে পারবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের লক্ষ্য এগিয়ে নিতে পারবে এবং আগামী শীতে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার জন্য বিদ্যুৎ অবকাঠামো আরও প্রস্তুত করতে পারবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি হলো নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেৎসকি। তিনি দায়িত্ব পেলে সরকারে একজন প্রযুক্তিনির্ভর ও অভিজ্ঞ প্রশাসকের নেতৃত্ব আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এতে রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠন ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

কিয়েভভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভলোদিমির ফেসেঙ্কো জানিয়েছেন, সরকার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সংকট মোকাবিলায় দক্ষ আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে। আলোচনায় রয়েছে খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভের নামও।

অন্যদিকে, বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকেও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি যুদ্ধকালীন প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সামরিক আধুনিকায়নের বিভিন্ন কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দিলে সেনাবাহিনীর চলমান সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

বিরোধী দল হলোস পার্টির আইনপ্রণেতা ইন্না সোভসুনও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময়ে প্রতিরক্ষা নেতৃত্বে ঘন ঘন পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও সামরিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার জ্বালানি খাত ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। একই সময়ে দেশটি সেনাবাহিনীর জনবল সংকট মোকাবিলা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন সরকার গঠনের সংসদীয় প্রক্রিয়া মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে পারে। জেলেনস্কির এই পদক্ষেপ যুদ্ধকালীন সময়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিক পরিবর্তনের সর্বশেষ উদাহরণ।

এর আগে দুর্নীতি তদন্তসহ বিভিন্ন কারণে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইউক্রেনে চলমান ‘মাইডাস’ দুর্নীতি তদন্তে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে, যা সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।

তবে কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলেনস্কির প্রতি জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে এবং তা প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি।

সামরিক আইন কার্যকর থাকায় ইউক্রেনে বর্তমানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে সরকার পুনর্গঠন ও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা জেলেনস্কির জন্য নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক উপায়।

তবে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা ও সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার দিমিত্রো রাজুমকভ মনে করেন, এই রদবদলে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। তার দাবি, জেলেনস্কির প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে সীমিতসংখ্যক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির ওপর নির্ভর করছে এবং বর্তমান পরিবর্তনও মূলত একই গোষ্ঠীর মধ্যে দায়িত্ব বদলের মতো।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]