• ঢাকা
  • ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১ মিনিট পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১৭ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২১ রাত

দর্শনার্থী কম, আকর্ষণে ভরপুর জাতীয় বৃক্ষমেলা

ছবি: সংগৃহীত

বর্ষার সময়টিই গাছ লাগানোর সবচেয়ে উপযুক্ত মৌসুম। এই সময় অনেকেই বাড়ির আঙিনা, ছাদ কিংবা বারান্দাকে সবুজে সাজাতে নতুন চারা খুঁজে থাকেন। সেই আগ্রহকে কেন্দ্র করেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলা মাঠে চলছে জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬। তবে এবার মেলার শুরুটা প্রত্যাশামাফিক হয়নি। টানা বৃষ্টি এবং পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও মেলার ভেতরে ঢুকলে দেখা মিলছে দেশি-বিদেশি বিরল সব গাছ, দামি বনসাই এবং সংগ্রহযোগ্য নানা প্রজাতির চারার সমাহার।

বর্ষার সবুজ উৎসব, কিন্তু দর্শনার্থী কম

মেলা কর্তৃপক্ষ ও বিক্রেতাদের ভাষ্য, সকালে মেলায় দর্শনার্থী খুব একটা দেখা না গেলেও বিকেলের দিকে কিছুটা ভিড় বাড়ছে। অনেকেই জানিয়েছেন, তারা দেরিতে মেলার খবর পেয়েছেন। ফলে প্রচারণা আরও জোরদার হলে আগামী দিনগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজক ও বিক্রেতারা।

এবারের মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি বনসাই। নিখুঁত পরিচর্যা ও বহু বছরের গড়ে ওঠা এই বনসাই দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

শুধু বনসাই নয়, সংগ্রাহকদের নজর কাড়ছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের জাপানি পার্সিমন এবং রামবুটানের চারা। দাম বেশি হলেও বিরল প্রজাতির এসব গাছ সংগ্রহে আগ্রহীদের অভাব নেই।

দেশি-বিদেশি শতাধিক প্রজাতির গাছ

মেলায় প্রায় ১২০টি স্টলে পাওয়া যাচ্ছে ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের বিশাল সংগ্রহ। দেশীয় ফলের পাশাপাশি বিদেশি প্রজাতির গাছও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়।

আমপ্রেমীদের জন্য রয়েছে জাপানের মিয়াজাকি, চিয়াংমাই, কিং আব চাকাপাত, আমেরিকান রেড পালমার এবং বড় আকৃতির ব্রুনাই কিং আমের চারা।

এছাড়া পাওয়া যাচ্ছে ভিয়েতনামের বারোমাসি কাঁঠাল, রামবুটান, অ্যাভোকাডো, মিসরীয় ডুমুর, লটকন, ডালিম, জাম, সফেদা, আতা, সরিফা, ডেউয়া, বিলাতি গাব, আমলকী, বাতাবিলেবুসহ নানা ধরনের ফলদ গাছ।

ফুলপ্রেমীদের জন্য রয়েছে গোলাপ, জবা, জারবেরা, কাঠগোলাপ, অলকানন্দা, বাগানবিলাস, পদ্ম, শাপলা, বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড এবং রঙিন ক্যাকটাস।

তরুণদের পছন্দ বিদেশি ফল, প্রবীণদের ভরসা দেশি গাছ

বিক্রেতারা জানান, প্রবীণ ক্রেতারা সাধারণত আম, কাঁঠাল, জামসহ দেশীয় ফলের গাছের চারা বেশি খোঁজেন। অন্যদিকে তরুণদের আগ্রহ বিদেশি ও তুলনামূলক বিরল প্রজাতির গাছের দিকে বেশি।

তবে বিক্রির দিক থেকে এখনো শোভাবর্ধনকারী ও ফুলের গাছই এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ছাদবাগান ও বারান্দার জন্য ছোট আকৃতির গাছের চাহিদা বেড়েছে।

এবারের মেলায় রয়েছে বাঁশের একটি ব্যতিক্রমী সংগ্রহও। একটি স্টলে প্রায় ২০০ প্রজাতির বাঁশের চারা প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত চীনা মোসো বাঁশ, যার প্রতিটি চারার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। দ্রুত বৃদ্ধি ও নান্দনিক সৌন্দর্যের কারণে সংগ্রাহক এবং ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইনারদের কাছে এই বাঁশের বিশেষ কদর রয়েছে।

শুধু গাছ নয়, মিলছে বাগানের সব উপকরণ

যারা নতুন করে বাগান শুরু করতে চান, তাদের জন্যও মেলাটি বেশ উপযোগী। বিভিন্ন স্টলে পাওয়া যাচ্ছে কোকোপিট, পার্লাইট, ভার্মিকম্পোস্ট, জৈব সার, সিরামিক, প্লাস্টিক ও মাটির টব, প্ল্যান্টার, গ্লাভস, কাস্তে, নিড়ানি, পানি দেওয়ার ঝাঁজরি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

এছাড়া নতুন বাগানপ্রেমীরা বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে গাছের পরিচর্যা, সার ব্যবস্থাপনা ও ছাদবাগান তৈরির বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারছেন।

মেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জাতীয় বৃক্ষমেলা থেকে প্রায় ১৭ লাখ ৬৬ হাজার চারা বিক্রি হয়েছিল, যার আর্থিক মূল্য ছিল ১৫ কোটিরও বেশি টাকা। এবারও সেই রেকর্ড অতিক্রম করার প্রত্যাশা রয়েছে।

কেন ঘুরে আসবেন?

বর্ষাকাল গাছ লাগানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তাই যাঁরা ছাদ, বারান্দা কিংবা বাড়ির আঙিনায় সবুজের পরশ আনতে চান, তাঁদের জন্য জাতীয় বৃক্ষমেলা হতে পারে একটি আদর্শ গন্তব্য। বিরল বিদেশি ফলের গাছ থেকে শুরু করে দেশীয় ফলদ, ঔষধি, বনজ ও শোভাবর্ধনকারী গাছ—সবই মিলছে এক জায়গায়। সঙ্গে রয়েছে বাগান তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং পরিবেশবান্ধব নানা আয়োজন।

জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬ শুরু হয়েছে ৯ জুলাই। মেলা চলবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা/রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এই মেলায় প্রবেশে কোনো টিকিট লাগে না। বর্ষার এই মৌসুমে প্রকৃতিপ্রেমী ও বাগানপ্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে রাজধানীর অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com