মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকেরা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। এসব কারণেই সোমবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে সামান্য পতন দেখা গেছে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪ দশমিক ৫৩ ডলারে নেমে আসে। তবে আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯ দশমিক ৮০ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে জর্ডানে অন্তত দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায়। এর পর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা টানা নবম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো জানিয়েছে, রোববারও ইরানের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওনড্যার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, ছুটির দিনে সংঘাত বৃদ্ধির ঘটনা দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তার মতে, অর্থনীতিতে স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির সমন্বিত ঝুঁকি বা স্ট্যাগফ্লেশনের আশঙ্কা যদি আরও বাড়ে, তাহলে তা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এতে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
কেলভিন ওং আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজার নিয়ে তিনি সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ৩ হাজার ৮৮৬ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্তরের দিকে নজর রাখছেন। স্বর্ণের দাম এই স্তরের নিচে নেমে গেলে তা আরও কমে ৩ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৬ দশমিক ৯৫ ডলারে উঠেছে। প্ল্যাটিনামের দামও ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৪৪ দশমিক ৫০ ডলারে নেমেছে।
সূত্র: রয়টার্স
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর