ইরানে টানা নবম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণে অচল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে এ ঘটনার স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সোমবার (২০ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার হামলার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করা হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর ও বন্দর ইমাম খোমেনিসহ কয়েকটি শহরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এসব এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে থাকা মার্কিন বিমান, কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সোমবার সকালে বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। একই সময়ে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, ইরানের হামলায় পাঠানো শত্রু ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছে।
আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের একটি রুট দিয়ে চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরণে অচল হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, ওই পথ ব্যবহার করতে জাহাজগুলোকে উৎসাহিত করেছিল মার্কিন বাহিনী। তবে জাহাজগুলোর নাম, পতাকা, নাবিকদের পরিচয় বা হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি তারা। রয়টার্সও স্বাধীনভাবে এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর তারা পেয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও খোলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও কমে এসেছে। এলএসইজি'র তথ্য অনুযায়ী, রোববার প্রণালিটি অতিক্রম করেছে মাত্র চারটি জাহাজ, যেখানে আগের দিন এ সংখ্যা ছিল আটটি। পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
এদিকে উত্তর ইরাকে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিষ্ক্রিয় করার সময় এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সেন্টকম। সর্বশেষ এ মৃত্যুর পর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। আহত হয়েছেন ৪২০ জনের বেশি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরান ও লেবানন মিলিয়ে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর