৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি র্নিমাণ উদ্যোক্তা গ্রেপ্তারকৃত প্রতারক সেই হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস ওরফে তাওহীদ ইসলামের ”মাশাল্লাহ মঞ্জিল নামীয় সেই বাড়িটিতে তালা ঝুলিয়েছে পাওনাদাররা। হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস ওরফে তাওহীদ ইসলাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের ছাইতানতলা গ্রামে ৪ কোটি টাকায় ৪ তলা বিশিষ্ট আলিশান বাড়ি নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন।
ছাইতানতলা গ্রামের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলামের মেয়ে স্মৃতি আক্তারকে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত হয়ে তিনি মুসলমান লেবাস ধারন করে মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। বিয়ে করা স্ত্রী স্মৃতি আকতার ও তার পরিবারের লোকজন মাশাল্লাহ মঞ্জিলে নামীয় এ বাড়িতেই দীর্ঘ দিন ধরেই বসবাস করতেন। বুধবার (২৩ জুলাই) বিকালে পাওনাদারেরা জড়ো হয়ে স্ত্রী স্মৃতি আকতারকে প্রমোদকুঞ্জখ্যাত মাশাল্লাহ মঞ্জিল থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রাশেদুল হাসান।
জানাগেছে, ২০১৯ সালের দিকে সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলামের মেয়ে স্মৃতি আক্তারকে বিয়ে করে নাম পাল্টে হরিদাস হয়ে যান মোঃ তাওহীদ ইসলাম।
প্রথমেই এলাকার অসহায় মানুষকে সহায়তা করে তিনি।পরে সমাজের পভাবশালী একটি মহলকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করে নানবিধ প্রতারণা। প্রতারক চক্রটি সরকারি ঘর, নলকূপ দেয়ার নামে শত শত মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ২০১৯ সালে ১৩ শতাংশ জমি কিনে সরকারি খালের ১৫ শতাংশ খাস জমি দখল করে ৪ কোটি টাকায় একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেন। প্রথমে চিকিৎসালয় করার কথা জানান হরিদাস।৪তলা ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলে সুইমিংপুল বানিয়ে কটেজ ব্যবসা শুরু করেন। দিনরাত দেহ ও মাদক ব্যবসা চলতো তার এই বিলাস বহুল বাড়িতে।
সরেজমিন আলোচিত বিলাশবহুল”মাশাল্লাহ মঞ্জিল” পরিদর্শন করে দেখা গেছে,দীর্ঘ অযত্ন অবহেলার শিকার বিলাশ বহল বাড়িতে এখন মাকড়সারা বাসা বেঁধেছে। বাড়ির সামনে প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক নামে একটি বিশাল সাইন বোর্ড থাকলেও তাও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর দরিদ্র পরিবারে জন্ম হরিদাসের। পড়াশোনা ছেড়ে ভারতে প্রায় ৯ বছর থাকার পর দেশে ফিরে তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকায় এসি মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে পুরোনো এসি বিক্রি ও মেরামতসহ বিভিন্ন ছোট ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। কৌতুহলি মানুষ এক সময় বাড়িটি দেখার জন্য আসলেও এখন আসেন পাওনাদাররা। বাড়ির সামনে ভ্যান রিকশা নিয়ে দাড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন গোলাম মোস্তফা নামের এক ব্যাক্তি। তিনি জানান,৬ বছর আগে তার ছেলে ইসরাফিলকে সরকারী চাকরী দেয়ার কথা ৭ লাখ টাকার চুক্তিতে ১ লাখ নেন প্রতারক তাওহীদ। ৬ বছরে দুই বারে ৪০ হাজার টাকা দিলেও বাকী টাকা এখনো পাননি।
এক বছর আগে স্থানীয় দুলাল দোকানদার নামে একজন ২০ হাজার টাকা দেন। দুলালের মত আরও কমপক্ষে ৫০ জনের একটি বাহিনী আছে তাওহীদের। যাদের সহায়তায় সকল অপকর্ম করতে সাহস পেয়েছে এদেরকে আইনের আওতায় আনা দরকার বলে তিনি জানান। ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানান,পাওনাদাররা বুধবার সকালে ময়মনসিংহে মানববন্ধন শেষে বিকালে বাড়িতে তারা ঝুলিয়ে দেন। উল্লেখ্য, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় গত ১২ জুলাই রাতে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সহায়তায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে রামমন্দির থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর