যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির তুলনায় পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিষয়ে অনেক বেশি আগ্রহী। এমন তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরির পক্ষে বক্তব্য না দিলেও তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা কট্টরপন্থী সরকার উন্নতমানের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগোতে পারে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তায় যুদ্ধের শুরুতেই নিহত হন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিরোধিতা করে আসছিলেন এবং এ বিষয়ে একটি ধর্মীয় ফতোয়াও জারি করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের মতে, তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির অবস্থান ভিন্ন।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে পাওয়া অধিকাংশ গোয়েন্দা তথ্য যুদ্ধ শুরুর আগের। যুদ্ধের শুরুতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং এরপর থেকে নিরাপত্তার কারণে জনসমক্ষে উপস্থিতি ও যোগাযোগ সীমিত রেখেছেন। তা সত্ত্বেও তাদের মূল্যায়ন, তিনি এখনও সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন, যদিও বাবার মতো পূর্ণ কর্তৃত্ব এখনো প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই মূল্যায়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, যদি নতুন সর্বোচ্চ নেতা পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির প্রতি ইতিবাচক অবস্থানে থাকেন, তাহলে তা সামরিক অভিযান বাড়ানোর পক্ষে নতুন যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটি তাদের কিছু সেন্ট্রিফিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম মধ্য ইরানের শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ সরিয়ে নিয়েছে। এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও এ তথ্য প্রকাশ করেছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য আপাতত নতুন করে কর্মসূচি চালু করা নয়; বরং ভবিষ্যৎ হামলা থেকে পারমাণবিক অবকাঠামো রক্ষা করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এখনো অক্ষত রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা সম্ভব।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সুবিধা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সহায়তার ঘোষণা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির দিকে আরও বেশি উৎসাহিত করতে পারে।
তার ভাষায়, “ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র এখন আরও কার্যকর প্রতিরোধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”
তবে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই গোয়েন্দা মূল্যায়ন বা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর