দেশব্যাপী সরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) থেকে আনসার সদস্যরা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে ১০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের নেতৃত্বে থাকবেন একজন কমান্ডার, যিনি নিরাপত্তা কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় পাঁচ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাদের বেতন-ভাতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনিযুক্ত কমান্ডার তৌফিকুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব। রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে সেবা নিতে ও দিতে পারেন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশরাত জাহান উম্মন বলেন, “স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ডাক্তার-রোগীদের নিরাপত্তায় আনসার বাহিনী নিয়োজিত করায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এ উদ্যোগের ফলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক ও রোগীদের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হবে এবং হাসপাতালের সেবার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের এ উদ্যোগের ফলে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে দালালচক্রের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও সেবাবান্ধব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র আনসার বাহিনী মোতায়েনের সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ফোরামের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
জানা গেছে, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও সুসংহত হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর