• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২৮ সেকেন্ড পূর্বে
শাহাদুল ইসলাম সাজু
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৭ দুপুর

মেরামতের আড়াই মাসেই পিচ উঠে বেহাল দশা জয়পুরহাট-হিলি মহাসড়কে

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

মেরামতের মাত্র আড়াই মাস পার হতে না হতেই বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে জয়পুরহাট-হিলি আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি বড় অংশ। ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা ১৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে শহরের পাঁচুর মোড় থেকে পুরানাপৈল পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার অংশের পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও সড়ক দেবে গিয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

‎সওজ সূত্র জানায়, জয়পুরহাট-হিলি আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার অংশ মেরামতের জন্য ২ কোটি ৬৯ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৪ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়। কাজটি পায় খাগড়াছড়িভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড। প্রকল্পের আওতায় পাঁচুর মোড় থেকে পুরানাপৈল পর্যন্ত চার কিলোমিটার অংশে নতুন কার্পেটিং এবং বাকি ১৫ কিলোমিটার অংশে প্যাচিং ও আংশিক মেরামত করা হয়। গত এপ্রিলের শেষ দিকে কাজ শেষ হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে গিয়ে পিচ উঠে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেয়া হয়।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচুর মোড় থেকে পুরানাপৈল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে সড়ক দেবে গেছে। যানবাহনগুলো গর্ত এড়িয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। কিছু স্থানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতকাজ করতে দেখা গেলেও পুডিং করার এক সপ্তাহের মধ্যে তা উঠে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণেই এত দ্রুত সড়কের ক্ষতি হয়েছে। তাদের দাবি, কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরাসরি কাজটি বাস্তবায়ন করেনি। পুরো কাজের তদারকি করেছেন স্থানীয় একজন। নতুন করে গর্ত ভরাট করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কেন আড়াই মাসের মধ্যে সড়কটি নষ্ট হয়ে গেল, কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান নিজে কাজ না করে অন্যের মাধ্যমে কেন বাস্তবায়ন করল, কারা কাজ তদারকি করেছে এবং নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

‎পারুলিয়া এলাকার দোকানি তপন কুমার সরকার বিশ্বাসপাড়ার শাহীন, জোহা ও আমিনা বেগম জানান, কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সড়ক বসে যেতে শুরু করে। এখন বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে বড় বড় গর্ত হয়েছে। ৪/৫ দিন আগে থেকে সওজ বিভাগের লোকজন মেরামত করছেন। ‎ ‎স্থানীয় ট্রাক চালক আলমগীর হোসেন বলেন, মেরামতের আগেও সড়কটি এতটা খারাপ ছিল না। কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই পিচ উঠে যেতে শুরু করে। এখন গাড়ি চালাতে খুবই ঝুঁকি হচ্ছে।

‎নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জয়পুরহাট জেলা শাখার সভাপতি নূর ই আলম বলেন, জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক আড়াই মাসেই নষ্ট হয়ে যাওয়া উদ্বেগজনক। চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের মেরামত করার কথা থাকলেও বর্তমানে সওজ বিভাগই কাজ করছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।

‎জয়পুরহাট সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজস খাঁন বলেন, কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান সরাসরি কাজ করেনি; রংপুরের ঠিকাদার নাজমুল হক মাসুম কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে। ডিফেক্টস লায়াবিলিটি মেয়াদের মধ্যে হওয়ায় এ ব্যয় ঠিকাদারের বিল থেকে সমন্বয় করা হবে।

‎রংপুরের ঠিকাদার নাজমুল হক বলেন, চুক্তি অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সেটি আমাদেরই মেরামত করতে হবে। আমরা শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পুনরায় কাজ শুরু করব। আমরা নিজেরাই কাজ করছি। সড়কের বেজ ভালো ছিল না। এ কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‎তবে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেডের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]