টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পৌর এলাকা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের কাঁচা-পাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব নিজস্ব অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবের উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ভবানীপুর হাওড়াপাড়, নিখাই গ্রাম, বেপারীপাড়া, ডোয়াইল বাজার, মাজালিয়ার বিলপাড়, বালিয়া ব্রিজপাড়, ডিগ্রীবন্দ পূর্বপাড়া এবং কৃষ্টপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে বিটবালি ও রাবিশ ফেলে চলাচল উপযোগী করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মোরশেদ আলম। কামরাবাদ ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া বটতলা মোড় থেকে কান্দারপাড়া পর্যন্ত কাঁচা সড়ক বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটি সাময়িকভাবে সংস্কার করেন। একই ইউনিয়েনে বিএনপির সহ-সভাপতি মো. উজ্জ্বল সরকার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন রাস্তা, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বাড়িঘরের সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া, মেম্বারবাড়ি, মালিপাড়া মধ্যপাড়া ও রামচন্দ্রখালী এলাকায় ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক জনস্বার্থে সংস্কার করেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি পলাশ মিয়া ফারুক।
এদিকে উপজেলার গেন্দারপাড়া গ্রামে মন্টু ডাক্তারের বাড়ি থেকে কমিউনিটি ক্লিনিকের পশ্চিম পাশ পর্যন্ত সড়কটি গত জুন মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে এইচবিবি করা হলেও ক্লিনিকসংলগ্ন স্থানে পাইপ বা কালভার্ট নির্মাণ না করায় বৃষ্টির পানির তোড়ে রাস্তা ভেঙে যায়। পরে মন্টু ডাক্তারের উদ্যোগে সড়কটি পুনরায় মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হয়।
অন্যদিকে, ভাটারা ইউনিয়নের গাবতলী বাজার-চর হরিপুর গ্রামের প্রধান সড়ক বৃষ্টিতে ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আছিমুল ইসলাম নিজস্ব অর্থায়নে ভাঙা অংশে মাটি ভরাট করে সাময়িকভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা করেন।
পিংনা ইউনিয়নের তারাকান্দি-ভূয়াপুর মহাসড়ক থেকে আওনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাওয়ামারা গ্রামের সংযোগ সড়কের একটি অংশও বৃষ্টিতে ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মরহুম বাহার উদ্দিন মাস্টারের পুকুরপাড়সংলগ্ন এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি। এ ছাড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিমলাপল্লী (পশ্চিম) এলাকার একমাত্র চলাচলের সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই বারবার ভেঙে যায় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। তারা সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শওকত জামিল বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি সড়কের বিষয়ে আবেদন পাওয়া গেছে। এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর