জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের টার্গেট করে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে অভিভাবকদের ফোন করে শিক্ষার্থীকে আটক করার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে এভাবে মোট ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই কৌশলে আরও এক শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হলেও তারা তথ্য যাচাই করায় প্রতারণা থেকে রক্ষা পান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জনী বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী মিডটার্ম পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। এ সুযোগে প্রতারকেরা তার বাবাকে ফোন করে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয় এবং দাবি করে, মাদকসহ ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
পরদিন ৩০ জুলাই একই কৌশলে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ফোন করা হয়। শিক্ষার্থীকে আটকের কথা বলে ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
এ ছাড়া আরেক নারী শিক্ষার্থীর মাকে ফোন করে প্রতারকেরা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয়। তারা দাবি করে, তার মেয়েকে একটি আবাসিক হোটেল থেকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক সম্মানহানির ভয় দেখানোর পাশাপাশি ফোনের অপর প্রান্তে এক নারীর কান্নার শব্দও শোনানো হয়। পরে বিকাশে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। তবে অভিভাবক বিষয়টি যাচাই করায় প্রতারকদের ফাঁদে পা দেননি।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবার ও স্বজনদের এ ধরনের প্রতারণামূলক ফোনকল সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতারকেরা কীভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা পরীক্ষার সময়সূচি জানতে পারছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জনী বলেন, এটি পরিকল্পিত প্রতারণার নতুন কৌশল। কোনো ফোনকল পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে টাকা পাঠানো উচিত নয়। আগে পরিচয় ও তথ্য যাচাই করতে হবে। সন্দেহজনক কোনো ফোনকল পেলে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
অন্যান্য... এর সর্বশেষ খবর