আমের মৌসুম এলেই বাংলাদেশে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি কিংবা ফজলির কদর বেড়ে যায়। কিন্তু জানেন কি, পৃথিবীতে এমন একটি আম আছে, যার এক জোড়া আমের দাম নিলামে উঠেছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ টাকারও বেশি?
জাপানের বিখ্যাত ‘মিয়াজাকি’ (Miyazaki Mango) বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত জাপানের মিয়াজাকি প্রিফেকচারে উৎপাদিত হয়। গাঢ় লালচে-বেগুনি রঙ, অসাধারণ মিষ্টতা এবং নিখুঁত মানের জন্য এই আম আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে।
কেন এত দাম?
মিয়াজাকি আমের দাম বেশি হওয়ার পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ। প্রতিটি আম আলাদা জালে ঝুলিয়ে চাষ করা হয়, যাতে ফলটি সমানভাবে সূর্যালোক পায়। পাকার পর আমটি নিজে থেকেই গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জালের মধ্যে পড়ে, ফলে ফলের গায়ে কোনো দাগ পড়ে না। প্রতিটি আমের ওজন, রং, আকৃতি এবং চিনির মাত্রা কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়।শুধু সর্বোচ্চ মানের আমই প্রিমিয়াম গ্রেড হিসেবে বাজারে আসে।

কত দাম?
জাপানে সাধারণ মানের মিয়াজাকি আমও বেশ দামী। তবে বিশেষ মানের আম নিলামে অবিশ্বাস্য দামে বিক্রি হয়।
২০২২ সালে জাপানের একটি মৌসুমি নিলামে এক জোড়া প্রিমিয়াম মিয়াজাকি আম ৫ লাখ জাপানি ইয়েন-এ বিক্রি হয়, যা সে সময় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার সমান ছিল। অর্থাৎ একটি আমের দামই দাঁড়ায় দেড় লাখ টাকার বেশি।
স্বাদ কেমন?
মিয়াজাকি আমে চিনির পরিমাণ সাধারণ আমের তুলনায় অনেক বেশি। এর শাঁস রসালো, আঁশ প্রায় নেই বললেই চলে। অনেকেই এর স্বাদে আনারস, পীচ ও নারকেলের হালকা ঘ্রাণের মিশ্রণ খুঁজে পান।
শুধু জাপানেই নয়
বর্তমানে ভারত, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের কিছু উদ্যোক্তাও পরীক্ষামূলকভাবে মিয়াজাকি জাতের আম চাষ করছেন। তবে জাপানের মতো আবহাওয়া, পরিচর্যা ও মান নিয়ন্ত্রণ না থাকায় একই মান ও বাজারমূল্য পাওয়া যায় না।
মজার তথ্য: একটি পূর্ণাঙ্গ মিয়াজাকি আমের ওজন সাধারণত ৩৫০–৫০০ গ্রাম। প্রিমিয়াম গ্রেডের আমে চিনির মাত্রা ১৫ শতাংশের বেশি হতে হয়। জাপানে এটি প্রায়ই বিলাসবহুল উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে যেখানে একটি ভালো মানের আম কয়েকশ টাকায় কিনতে পাওয়া যায়, সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই আমের একটি কিনতেই খরচ হতে পারে এক লাখ টাকারও বেশি। তাই মিয়াজাকি শুধু একটি ফল নয়, এটি জাপানের বিলাসবহুল ফল সংস্কৃতিরও প্রতীক।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর