সাম্প্রতিক ১৭ দিনের যুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)-এর বরাতে সোমবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ী বলেন, এই সংঘাতকে ‘তৃতীয় যুদ্ধ’ বা ‘মুহাররমের ১৭ দিনের যুদ্ধ’ বলা যেতে পারে। তার দাবি, এই যুদ্ধে ইরান শুধু প্রতিরোধই গড়ে তোলেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রকেও গুরুতর ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
রেজায়ী বলেন, বিশ্বের কাছে এই যুদ্ধ অস্বাভাবিক মনে হলেও ইরানের জন্য এটি ছিল প্রত্যাশিত। তিনি দাবি করেন, এর আগেই তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘন করে শেষ পর্যন্ত সামরিক হামলার পথ বেছে নেবেন।
তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের শর্ত মানেনি এবং ইরানের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে নতুন করিডোর গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং এ বিষয়ে ইরানের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়। এর জবাবে ইরান কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতার শর্তে ফিরে আসার বার্তা দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রেজায়ী আরও বলেন, সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়ার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করে দক্ষিণ ইরানে হামলা চালায়।
প্রতিশোধমূলক হামলার উদাহরণ হিসেবে তিনি ইরাকি কুর্দিস্তান ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, ইরানের হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই দুটি ঘাঁটি থেকে সেনা ও সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে বাধ্য হতে হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর