সুস্থ থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে সকালের নাশতা সারাদিনের শক্তি, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই দিনের শুরুতে কী খাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অনেকেই সচেতন থাকেন। সম্প্রতি আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরু (জগ্গি বাসুদেব) তাঁর সকালের খাবারের একটি সহজ অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন। মাত্র দুটি খাবার—কলা ও সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা একমুঠো চিনাবাদাম—দিয়ে তিনি দিনের শুরু করেন বলে জানিয়েছেন। এই অভ্যাস নিয়েই এখন চলছে আলোচনা।
সদগুরুর মতে, রাতে অন্তত ৬ ঘণ্টা বা সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা চিনাবাদাম সকালে খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। এটি সরাসরি চিবিয়ে খাওয়া যায়, আবার কলা ও সামান্য পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে তৈরি করা যায় স্বাস্থ্যকর স্মুদি। তাঁর দাবি, এই সাধারণ খাবারের সংমিশ্রণ কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত পেট ভরা রাখতে পারে এবং শরীরে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সহায়তা করে।
কলা ও চিনাবাদামের পুষ্টিগুণ কতটা?
পুষ্টিবিদদের মতে, চিনাবাদাম একটি পুষ্টিকর খাবার। এতে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, কপার ও ম্যাঙ্গানিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। অন্যদিকে কলা শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কলা ও চিনাবাদাম একসঙ্গে খেলে শরীরে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের একটি ভারসাম্য তৈরি হয়। ফলে এটি দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
ভেজানো চিনাবাদাম কেন খাওয়া হয়?
অনেকেই চিনাবাদাম ভিজিয়ে খান। পুষ্টিবিদদের মতে, পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এটি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে তুলনামূলক সহজে হজম হতে পারে। ভিজিয়ে রাখার ফলে চিনাবাদামের কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের মাত্রা কমে যায়, যা হজমে আরাম দিতে পারে।
তবে যাদের বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য চিনাবাদাম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়া ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা নির্দিষ্ট খাদ্যনিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ধরনের খাদ্যাভ্যাস গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
শুধু দুটি খাবারেই কি সম্পূর্ণ পুষ্টি পাওয়া সম্ভব?
পুষ্টিবিদদের মতে, কলা ও চিনাবাদামের সংমিশ্রণ নিঃসন্দেহে পুষ্টিকর হলেও এটি সবার জন্য সম্পূর্ণ সকালের খাবারের বিকল্প নয়। একজন মানুষের বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী খাদ্যের প্রয়োজন ভিন্ন হয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সকালের নাশতায় এমন খাবার রাখা ভালো যাতে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ফাইবার থাকে। ফল, বাদাম, ডিম, ডাল, গোটা শস্য বা দইয়ের মতো খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শরীরচর্চাও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সদগুরুর জীবনযাপন কেমন?
সদগুরু জগ্গি বাসুদেব, যিনি সাধারণভাবে সদগুরু নামে পরিচিত, একজন ভারতীয় আধ্যাত্মিক গুরু, লেখক ও বক্তা। তিনি ইশা ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৫৭ সালে ভারতের কর্ণাটকের মহীশূরে জন্মগ্রহণ করেন জগ্গি বাসুদেব।
সদগুরু দীর্ঘদিন ধরে যোগ, ধ্যান, মানসিক সুস্থতা ও সচেতন জীবনযাপনের বিষয়ে কাজ করে আসছেন। তাঁর জীবনধারায় নিয়মিত যোগচর্চা, ধ্যান, প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ দৈনন্দিন রুটিনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি সাধারণত সহজ ও পরিমিত খাবার গ্রহণের ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, খাবার শুধু ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয়, বরং শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করার আগে প্রত্যেকের নিজের শারীরিক প্রয়োজন ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মূল চাবিকাঠি হলো—সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে খাদ্য নির্বাচন করা। সদগুরুর সকালের এই সহজ অভ্যাস অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে তা সবার জন্য একইভাবে কার্যকর হবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর