জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ‘পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র’ বা ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ পর্যায় থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ এবং ভবিষ্যতে দেশকে আর কখনো পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে কোনোভাবেই একটি ক্লায়েন্ট স্টেট হিসেবে দেখতে চাই না। সেই পর্যায়ে আমরা আর কখনো ফিরে যাব না। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’।”
তিনি জানান, সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে বলেছেন, বাংলাদেশ একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল, তবে এখন আবার দেশটি বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসছে। খলিলুর রহমানের মতে, এই মন্তব্য বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ধরে রাখতে কূটনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ যাতে আর কখনো পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সরকারের সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর অল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়েই জুনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতির নির্বাচনে বাংলাদেশের বিজয় সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তিনি এটিকে সরকারের “প্রথম পরীক্ষা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ সেই পরীক্ষায় সফল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতরা রাষ্ট্রের ওপর একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব অর্পণ করে গেছেন। সেই দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, স্পৃহা ও সদিচ্ছা সরকারের রয়েছে এবং ইউএনজিএ নির্বাচনের ফলাফল তারই প্রমাণ।
দায়িত্ব গ্রহণের আগের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে খলিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দোলনের আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন। পরে প্রধান উপদেষ্টাকে তিনি বলেছিলেন, “আমরা যেন কখনো ভুলে না যাই, আমরা তাদের রক্তের ওপর হেঁটে এসে এখানে বসেছি।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশ নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং সেই অর্জন রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক রূপান্তর সম্পন্ন করা—এই তিন ক্ষেত্রেই সরকার সফল হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মু. নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মুহাম্মদ আব্দুল মুহিতও বক্তব্য দেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর